সব মহাদেশের নামের প্রথম এবং শেষ বর্ণ একই শীর্ষক দাবিটি আংশিক মিথ্যা 

বিগত কয়েক বছর ধরেই “প্রতিটি মহাদেশের নাম যেই বর্ণ দিয়ে শুরু হয় সেই বর্ণ দিয়েই শেষ হয়, যেমন Asia, America, Europe, Australia” শীর্ষক শিরোনামের একটি পোস্ট ফেসবুকে প্রচার হয়ে আসছে।

সম্প্রতি উক্ত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
পোস্টগুলোর আর্কাইভ ভার্সন দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।

একই দাবিতে ২০২২ সালে ছড়িয়ে পড়া কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে।
পোস্টগুলোর আর্কাইভ ভার্সন দেখুন এখানে এবং এখানে।

একই দাবিতে ২০২১ সালে ছড়িয়ে পড়া কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে।
পোস্টগুলোর আর্কাইভ ভার্সন দেখুন এখানে এবং এখানে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সব মহাদেশের নামের প্রথম এবং শেষ বর্ণ একই শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয় বরং উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের নামের প্রথম ও শেষ বর্ণ এক নয়।

কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ‘National Geographic’ এর ওয়েবসাইটে “Continent” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পৃথিবীর স্থলভাগ যে সাতটি ভাগে বিভক্ত তার একেকটিকে মহাদেশ বলা হয়। এই মহাদেশগুলো হল এশিয়া (Asia), ইউরোপ (Europe), উত্তর আমেরিকা (North America), দক্ষিণ আমেরিকা (South America), অ্যান্টার্কটিকা (Antarctica), আফ্রিকা (Africa) এবং অস্ট্রেলিয়া (Australia)।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘USA TODAY’ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবদনেও মহাদেশগুলোর একই নাম এসেছে।

বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘Phys.org’ এর ওয়েবসাইটেও মহাদেশগুলোর একই নাম দেখেছে রিউমর স্ক্যানার টিম।

মহাদেশের ইংরেজি নামগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এশিয়া (Asia), ইউরোপ (Europe), অ্যান্টার্কটিকা (Antarctica), আফ্রিকা (Africa) এবং অস্ট্রেলিয়া (Australia) মহাদেশের নামের প্রথম ও শেষ বর্ণ একই হলেও বাকি দুই মহাদেশ অর্থাৎ, উত্তর আমেরিকা (North America), দক্ষিণ আমেরিকা (South America) মহাদেশের নামের প্রথম ও শেষ বর্ণ এক নয়।

উত্তর আমেরিকার নামের প্রথম বর্ণ শুরু হয়েছে N দিয়ে, শেষ হয়েছে A দিয়ে।

দক্ষিণ আমেরিকার নামের প্রথম বর্ণ শুরু হয়েছে S দিয়ে, শেষ হয়েছে A দিয়ে।

অর্থাৎ, সাতটি মহাদেশের মধ্যে পাঁচটির ইংরেজি নামের প্রথম ও শেষ বর্ণ এক হলেও বাকি দুই মহাদেশের ক্ষেত্রে প্রথম ও শেষ বর্ণ ভিন্ন।

অস্ট্রেলিয়া নাকি ওশেনিয়া?

ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে অস্ট্রেলিয়াকে মহাদেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, অনেকেই অস্ট্রেলিয়াকে মহাদেশ হিসেবে মানতে নারাজ। তারা বলছেন, অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ নয় বরং ওশেনিয়া মহাদেশের একটি দেশ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক রেফারেন্স সাইট Thoughtco বলছে, অস্ট্রেলিয়ার পরিমাপ মাত্র তিন মিলিয়ন বর্গমাইল, তবে এতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান দ্বীপ মহাদেশের পাশাপাশি আশেপাশের দ্বীপগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলোকে সম্মিলিতভাবে ওশেনিয়া বলা হয়।

Phys.org এর প্রতিবেদন বলছে, অস্ট্রেলিয়া নিজেই একটি দেশ এবং একটি মহাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে কখনও কখনও ওশেনিয়া বলা হয়, যার মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া, পলিনেশিয়া এবং সেন্ট্রাল প্যাসিফিক ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যান্য ক্ষুদ্র দ্বীপ।

অর্থাৎ, অস্ট্রেলিয়াই মহাদেশটির নাম। তবে দেশটির আশেপাশের দ্বীপগুলোকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এই মহাদেশকে ওশেনিয়াও বলা হয়ে থাকে।

মূলত, প্রতিটি মহাদেশের নাম যেই বর্ণ দিয়ে শুরু হয় সেই বর্ণ দিয়েই শেষ হয় শীর্ষক শিরোনামের একটি পোস্ট ফেসবুকে বিগত কয়েক বছর ধরে প্রচার হয়ে আসছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাতটি মহাদেশের মধ্যে পাঁচটির ইংরেজি নামের প্রথম ও শেষ বর্ণ এক হলেও বাকি দুই মহাদেশের (উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা) ক্ষেত্রে প্রথম ও শেষ বর্ণ ভিন্ন। তাছাড়া, অনেকেই অস্ট্রেলিয়াকে মহাদেশ নয় জানিয়ে ওশেনিয়া মহাদেশের একটি দেশ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া দাবি করে পোস্টগুলোতে কমেন্ট করলেও অনুসন্ধানে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়াই মহাদেশটির নাম। তবে দেশটির আশেপাশের দ্বীপগুলোকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এই মহাদেশকে ওশেনিয়াও বলা হয়ে থাকে।

সুতরাং, প্রতিটি মহাদেশের নামের প্রথম এবং শেষ বর্ণ একই শীর্ষক একটি দাবি বিগত কয়েক বছর ধরে ফেসবুকে প্রচার হয়ে আসছে; যা আংশিক মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: