রাশিয়ার নয়, ব্রিজ ভাঙার এই ভিডিওটি জার্মানির

সম্প্রতি, চোখের পলকে ব্রিজ তৈরী করে দেখালো রাশিয়া শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচার করা হচ্ছে।

ব্রিজ ভাঙার

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি রাশিয়ার নয় এবং এটি ব্রিজ তৈরির কোনো দৃশ্যও নয় বরং পশ্চিম জার্মানির একটি মোটরওয়ে সেতু ভেঙে ফেলার ভিডিও রিভার্স করে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

আলোচিত দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে HD1080ide নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে গত ১১ মে “The Fastest Way to Build a Bridge” শীর্ষক শিরোনামে একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ভিডিওর সাথে উক্ত আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তবে ভিডিওর বিস্তারিত বিবরণী থেকে আসল ভিডিওটি সম্পর্কে জানা যায়।

পরবর্তীতে একই ইউটিউব চ্যানেলে গত ০৮ মে প্রকাশিত ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ভিডিওর সাথে উক্ত আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

ভিডিওটির বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ০৭ মে পশ্চিম জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার লুডেনশিডে অবস্থিত রহমেদ ভ্যালি নামক একটি মোটরওয়ে সেতু নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ থাকার পর ভেঙে ফেলা হয়।

ফ্রান্স ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা Euronews এর এক সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ০৭ মে পশ্চিম জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার লুডেনশিডতে অবস্থিত রহমেদ ভ্যালি নামের সেতুটি দীর্ঘ ১৭ মাস নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ থাকার পর ভেঙে ফেলা হয়। ব্রিজটির ওজন ছিলো ১৭ হাজার টন, ৭০ মিটার উঁচু এবং ৪৫৩ মিটার লম্বা। ব্রিজটিকে ভাঙ্গার জন্য প্রায় ১৫০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক দরকার হয়েছিল। ১৯৬৫-১৯৬৮ সালে রহমেদ উপত্যকার উপর মোটরওয়ে ব্রিজটি নির্মিত হয়েছিল।

মূলত, গত ০৭ মে পশ্চিম জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার লুডেনশিডতে অবস্থিত রহমেদ ভ্যালি নামের একটি সেতু নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ থাকার পর ভেঙে ফেলা হয়। সেতুটি ভাঙ্গার জন্য কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৫০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক ব্যবহার করে। সেতুটি ভাঙ্গনের ভিডিওটি ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় রিভার্স করে “রাশিয়া চোখের পলকে ব্রিজ তৈরী করে দেখালো” দাবিতে ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে, যা সঠিক নয়।

সুতরাং, জার্মানীতে একটি সেতু ভাঙার ভিডিওকে রিভার্স করে রাশিয়ায় ব্রিজ তৈরির দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচার করা হচ্ছে, যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: