পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশ সরকারকে কয়লা দেয়নি

সম্প্রতি ‘পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশ সরকারকে কয়লা দিয়েছে’ শীর্ষক দাবিতে দুইটি ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম টিকটকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এমন কিছু ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশ সরকারকে কয়লা দিয়েছে শীর্ষক দাবিটি সত্য নয় বরং কোনো ধরনের তথ্যসূত্র ছাড়াই পুরোনো অপ্রাসঙ্গিক দুইটি ভিডিও সংযুক্ত করে উক্ত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।

প্রথম ভিডিও যাচাই

উক্ত দাবির সাথে প্রচারিত প্রথম ভিডিওটির স্থিরচিত্র রিভার্স ইমেজ সার্চ করে, ‘Airliners & Ships Channel’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর “BIGGEST CONTAINER SHIP EVER ACE Maiden” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত ৩৫ মিনিটের মূল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়।

ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ভিডিওটির শুরুর দিকের কিছু অংশ কেটে নিয়েই উক্ত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।

উক্ত ইউটিউব ভিডিওর ক্যাপশন থেকে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা জাহাজের নাম Ever Ace। সে সূত্র ধরে অনুসন্ধানের মাধ্যমে, জাহাজের বর্তমান অবস্থান দেখানো ওয়েবসাইট ‘vesselfinder’ এ দেখা যায় উক্ত জাহাজটি গত ১২ জুন তাইওয়ানের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া থেকে রওনা হয়েছে। এছাড়া জাহাজটি বিগত কিছু দিনে বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে যায়নি।

দ্বিতীয় ভিডিও যাচাই

উক্ত দাবির সাথে প্রচারিত দ্বিতীয় ভিডিওটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ভিডিওতে থাকা জাহাজের নাম MSC GAIA।

সে সূত্র ধরে অনুসন্ধানের মাধ্যমে, জাহাজের বর্তমান অবস্থান দেখানো ওয়েবসাইট ‘vesselfinder’ এ দেখা যায় উক্ত জাহাজটি গত ০৩ জুন ইন্ডিয়ার উদ্দেশ্যে শ্রীলঙ্কা থেকে রওনা হয়েছে। এছাড়া জাহাজটি বিগত কিছু দিনে বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে যায়নি।

অর্থাৎ, পুরোনো অপ্রাসঙ্গিক দুইটি ভিডিও সংযুক্ত করে ‘পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশ সরকারকে কয়লা দিয়েছে’ শীর্ষক দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।

গত ১০ জুন দেশীয় মূলধারার সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২১ মে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসা চীনা পতাকাবাহী জাহাজ এমভি জে হ্যায় সেদিন (১০ জুন) মোংলা সমুদ্রবন্দরে পৌঁছেছে।

এছাড়া গত ১৩ জুন দেশীয় মূলধারার সংবাদমাধ্যম আজকের পত্রিকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে ৪০ হাজার টন কয়লা আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে। নতুন ঋণপত্রে আমদানি করা এই কয়লা আগামী ২৪-২৫ তারিখের দিকে পায়রা বন্দরে আসতে পারে তবে, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে কয়লা আমদানির কোনো তথ্য বিশ্বস্ত কোনো গণমাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মূলত, গত ২৫ মে কয়লা সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় দেশের বৃহত্তম পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট। এরপর কয়লার অভাবে সোমবার, ৫ জুন বেলা ১২টার দিকে বন্ধ হয়ে যায় পটুয়াখালীর পায়রার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটটিও। এ প্রেক্ষিতে ‘পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশ সরকারকে কয়লা দিয়েছে’ শীর্ষক একটি দাবি টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনো ধরনের তথ্যসূত্র ছাড়াই পুরোনো অপ্রাসঙ্গিক দুইটি ভিডিও সংযুক্ত করে উক্ত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ‘ওমান থেকে ৮৫ লক্ষ ৯২ হাজার ৮৯৫ মেট্রিক টন কয়লাসহ ৭৭ টি বিশাল জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে’ শীর্ষক একটি দাবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে সে বিষয়টি মিথ্যা শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম।

সুতরাং,পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশ সরকারকে কয়লা দিয়েছে শীর্ষক দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: