ভিডিওটি গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের জন্য মনোনীত হয়নি

সম্প্রতি “This video is nominated for guinness book of world records. Amazing efforts by the videographer.. ” শিরোনামের সাথে বাংলায় আরো কিছু শিরোনাম জুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে; ভাল্লুক ও সিংহের একটি ভিডিও গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের জন্য মনোনীত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এর জন্য মনোনীত হয়েছে শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয় বরং ভিডিওটি একাধিক ভিন্ন পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের জন্য মনোনীত হয় নি।

ভিডিওটির একটি স্থিরচিত্র রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে নিউজলেটার ম্যানেজমেন্ট সাইট সাবস্টাক-এ একজন ব্যবহারকারীর একটি কন্টেন্ট বা নিউজলেটার কন্টেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। এই কন্টেন্টের সাথে “The Movie “Bear” উল্লেখ করে সিনেমটির আইএমডিবি পেজ হাইপার লিংক (যুক্ত) করে দেওয়া হয়। আইএমডিবি পেজ এ প্রদর্শিত সিনেমটির ট্রেইলারে দাবিটির সমজাতীয় দৃশ্য বা ভিডিও দেখতে পাওয়া যায়।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য থেকে (সিনেমার নাম) কি-ওয়ার্ড সার্চ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে জানা যায় যে সিনামেটি মুলত একটি ফরাসি সিনেমা যার মূল শিরোনাম L’Ours (1988) এবং ইংরেজি নাম The Bear

ফরাসি এই শিরোনাম (সিনেমার নাম) অনুযায়ী কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবে ২০০৭ সালের ১লা নভেম্বর আপ্লোডকৃত “L’Ours (1988) – the cougar scene (আর্কাইভ)” শীর্ষক শিরোনামে আলোচিত (দাবি’র) ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, দাবির আলোচিত ভিডিওটি ফরাসি সিনেমা L’Ours (1988) বা The Bear এর দৃশ্য।

ভিডিওটি কি গিনেজ রেকর্ডের জন্য মনোনীত হয়েছে?

ভিডিও চিত্রটি গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এর জন্য ‘মনোনীত’ হয়েছে বলে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে সে বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড- এ নমিনেশন বা মনোনয়ন সংক্রান্ত কোনো ব্যবস্থা নেই। গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও প্রমাণ সাপেক্ষে কোনো রেকর্ড গৃহীত কিংবা প্রত্যাখ্যাত হয়ে থাকে। গিনেজ বুকের ওয়েবসাইটগাইডলাইন অনুসন্ধানে কোনো রেকর্ডের জন্য ‘মনোনয়ন’ প্রদান সংক্রান্ত কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় নি। সুতরাং, ভিডিওটির গিনেজ বুক মনোনয়ন (নমিনেশন) পাওয়ার সুযোগ নেই।

ভিডিওটির গিনেজ বুক ‘মনোনয়নের’ তথ্য সঠিক না হলেও, এটি (ভিডিওটি) কোনো গিনেজ রেকর্ডের মালিক কি না তা জানার জন্য অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার।

সিনেমা (ডাটাবেজ) বিষয়ক সাইট IMDB এর তথ্যমতে, ১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘The Bear’ সিনেমাটির ঝুলিতে অস্কার মনোনয়নসহ একাধিক পুরষ্কার থাকলেও, গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান করে নেওয়ার কোনো তথ্য সেখানে পাওয়া যায় নি।

এছাড়াও, সিনেমার পরিচালক Jean-Jacques Annaud এর ওয়েবসাইট থেকেও The Bear সিনেমার প্রাপ্ত পুরষ্কার ও সম্মাননার একটি তালিকা পাওয়া যায়। সেখানেও, গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের কোনো স্বীকৃতির তথ্য পাওয়া যায় নি।

ভিডিও ক্লিপটির গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড টাইটেল প্রাপ্তির ব্যাপারে জানতে চাইলে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষ এর PR Executive, Alina Polianskaya রিউমর স্ক্যানারকে জানান, “ভিডিওটির গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড-এ কোনো টাইটেল নেই।”

অর্থাৎ, গিনেজ বুকে ভিডিওটি কোনো ক্যাটাগরিতেই কোনো রেকর্ডের মালিক নয়। যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভিডিওটির গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সংক্রান্ত কোনো স্বীকৃতি নেই।

মূলত, ১৯৮৮ সালের ফরাসি সিনেমা L’Ours (1988) এর একটি দৃশ্য (ভিডিও) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে ভিডিওটি গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের জন্য মনোনীত হয়েছে। তবে ইন্টারনেটে ভিডিওটির গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের জন্য মনোনীত হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও গিনেজ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন যে ভিডিওটি কোনো ক্যাটাগরিতেই কোনো রেকর্ডের মালিক নয়।

উল্লেখ্য, L’Ours (1988) সিনেমাটি ১৯৯০ সালের একাডেমী অ্যাওয়ার্ডে বেস্ট ফিল্ম এডিটিং ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়। সে-বছরই সেরা সিনেমাটোগ্রাফি ক্যাটাগরিতে BAFTA পুরস্কারের জন্যও মনোনয়ন পেয়েছিল সিনেমাটি। এছাড়াও, ১৯৮৯ সালে ফ্রান্সের সিজার অ্যাওয়ার্ডের একাধিক ক্যাটাগরিতে পুরষ্কার অর্জন সহ বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু প্রতিযোগিতায় মনোনয়ন ও বিজয়ী হয় L’Ours (The Bear).

সুতরাং, সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফরাসি সিনেমা L’Ours (1988) বা The Bear এর দৃশ্য প্রচার করে ‘ভাল্লুক ও সিংহের ভিডিওটি গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের জন্য মনোনীত হয়েছে’ শীর্ষক দাবি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ন মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: