মুন্সীগঞ্জে ফ্রিজ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ভিডিও নাটোরের বিএনপি নেতার দাবিতে করে প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে, যেখানে দেখা যায় পুলিশ এক দোকানদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং তার দোকানের ফ্রিজ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করছে। ভিডিওতে পুলিশের প্রশ্নের জবাবে ওই দোকানদারকে বলতে শোনা যায়, পিস্তলটি “সিফাত” নামের একজন ব্যক্তি সেখানে রেখে গেছেন। উক্ত ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়, নাটোর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিফাত পুলিশকে দেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় চায়ের দোকানের ফ্রিজে পিস্তলটি রেখে যান।

উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটির সঙ্গে নাটোর জেলা বিএনপির কোনো নেতার সম্পৃক্ততা নেই এবং ঘটনাটি নাটোরেরও নয়। প্রকৃতপক্ষে ভিডিওটি মুন্সিগঞ্জের একটি ভিন্ন ঘটনার।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রচারিত ভিডিওতে থাকা ‘দ্য বিক্রমপুর’ লোগোর সূত্র ধরে মূল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। গত ১১ জুন ‘দ্য বিক্রমপুর’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওটির সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওর সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায়। মূল ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘মোল্লাকান্দিতে ফ্রিজের ভেতর অস্ত্র: যেভাবে উদ্ধার করল ডিবি পুলিশ’। মোল্লাকান্দি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার একটি ইউনিয়ন। এছাড়া ভিডিওটির কোথাও নাটোর জেলা বিএনপি কিংবা কোনো বিএনপি নেতার সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো তথ্য বা উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে, গত ১০ জুন প্রকাশিতস্টার নিউজের একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মধ্য মাকহাটি এলাকায় একটি দোকানের ফ্রিজ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ মো. রাজিব মাঝি (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেদিন বিকেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজিব মাঝি দাবি করেন, ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সিফাত মাঝি (২২) নামের এক যুবক পালিয়ে যাওয়ার সময় অস্ত্রগুলো তার দোকানে রেখে যান। পরবর্তী সময়ে তিনি সেগুলো দোকানের ফ্রিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন।

এছাড়া, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি প্রতিবেদনে নাটোর জেলা বিএনপির ১৬ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক আহ্বায়ক কমিটির তালিকা পাওয়া যায়। উক্ত কমিটিতে জেলা কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রহিম নেওয়াজকে আহ্বায়ক এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে সদস্য সচিব করা হয়। তবে প্রকাশিত কমিটির তালিকায় ‘সিফাত’ নামের কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দি এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের একটি ঘটনার ভিডিওকে নাটোর জেলার বিএনপি নেতার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: