আসিফ মাহমুদকে উদ্ধৃত করে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ দাবিতে এআই-তৈরি পত্রিকার পাতা প্রচার

সম্প্রতি, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে উদ্ধৃত করে “আমার কাছে যে পাঁচ হাজার কোটি টাকা আছে ওটা আমার পরিশ্রম করে ইনকাম করা টাকা, আমি কোন দুর্নীতি করিনি আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে” শিরোনামে দৈনিক কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে দাবিতে পত্রিকার একটি পাতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আসিফ মাহমুদকে উদ্ধৃত করে আলোচিত শিরোনামে কালের কণ্ঠে কোনো সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, কালের কণ্ঠের আদলে তৈরি একটি এআই-নির্মিত পত্রিকার পাতা ব্যবহার করে দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রচারিত পাতাটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এখানে আলোচিত বক্তব্যটির পাশে আসিফ মাহমুদের ছবি যুক্ত করা হলেও কথিত প্রতিবেদনে বক্তব্যটি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক (নাছিদ ইসলাম) নাহিদ ইসলামের বলে দাবি করা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রচারিত পাতাটিতে কালের কণ্ঠের উক্ত সংখ্যাটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ৮ জুন, ২০২৫ উল্লেখ থাকতে দেখা যায়। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) সেবছরের ৫ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত সংবাদপত্রের ছুটি ঘোষণা করেছিল। এ কারণে ৬ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত দেশের কোনো সংবাদপত্র সেসময় প্রকাশিত হয়নি। ফলে ৮ জুন তারিখে কালের কণ্ঠের কোনো সংস্করণ প্রকাশিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। কালের কণ্ঠের ই-পেপার পর্যালোচনা করেও সেদিনের কোনো সংস্করণ প্রকাশিত হতে দেখা যায়নি।

এছাড়া, আলোচিত পাতাটি পর্যালোচনা করে একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। কালের কণ্ঠের নিয়মিত স্লোগান ‘আংশিক নয়, পুরো সত্য’ হলেও আলোচিত পাতায় ‘আমরা দেশের পক্ষে, জনগণের পাশে’ শীর্ষক ভিন্ন স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাতাটিতে জিলহজ্র, জ্যেষ্ঠ, নাছিদ ইসলাম, কূটনীতি, তংপরতা-এর মত শব্দ ও বানানে অস্বাভাবিক ভাঙন এবং বিকৃতি দেখা যায়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত কনটেন্টে লক্ষ্য করা যায়।

চ্যাটজিপিটির মূল প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর নিজস্ব এআই ডিটেকশন টুল ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ছবিটি ওপেনএআই-এর মাধ্যমেই তৈরি। মূলত, ওপেনএআই তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবিতে বিশেষ কিছু সিগন্যাল যুক্ত করে দেয়। পরবর্তীতে এই সিগন্যালগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমেই তাদের নিজস্ব শনাক্তকারী টুলটি এআই-জেনারেটেড ছবি চিহ্নিত করতে পারে।

আলোচিত প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, গত বছরের ৭ জুন নাহিদ ইসলাম একটি লাইভে এমন মন্তব্য করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে নাহিদ ইসলাম কিংবা আসিফ মাহমুদ কারো ফেসবুক প্রোফাইলেই গতবছরের ৭ জুন এমন কোনো লাইভ প্রচারিত হতে দেখা যায়নি।

অর্থাৎ, আলোচিত পত্রিকার পাতাটি আসল নয়। কালের কণ্ঠের ডিজাইন অনুসরণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এটি তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং, “আমার কাছে যে পাঁচ হাজার কোটি টাকা আছে ওটা আমার পরিশ্রম করে ইনকাম করা টাকা, আমি কোন দুর্নীতি করিনি আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে” শিরোনামে আসিফ মাহমুদকে উদ্ধৃত করে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের দাবিটি মিথ্যা এবং উক্ত দাবিতে প্রচারিত পত্রিকার পৃষ্ঠাটি এআই জেনারেটেড।

তথ্যসূত্র

Share: