হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠানে চৌধুরী মঈনুদ্দীন নন, ছিলেন ভিন্ন ব্যক্তি

গত ১৫ জুন এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সফররত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সাথে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মতবিনিময় ও শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চৌধুরী মঈনুদ্দীন উপস্থিত ছিলেন শীর্ষক একটি দাবি অনলাইন মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

মূলত, প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের উক্ত দাবি সংবলিত পোস্টের পর এটি ব্যাপক আকারে ছড়াতে শুরু করে।

উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন Md M Rashed, Freedom Bangla News, TDS – The Dhaka Samachar, দৈনিক ভোরের শিশির, Bangladesh Insiders

একই দাবির পোস্ট দেখুন এক্স, ইনস্টাগ্রামে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত দাবির পোস্টগুলোতে যে ব্যক্তিকে চৌধুরী মঈনুদ্দীন বলে প্রচার করা হচ্ছে তিনি ভিন্ন ব্যক্তি। প্রকৃতপক্ষে, রিফর্ম বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান আতাউর রহমানকে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘NCP UK Alliance’ পেজে গত ১৫ জুন রাতের (বাংলাদেশ সময়) একটি লাইভ ভিডিওতে উক্ত ব্যক্তিকে দর্শক সারিতে বসে থাকতে দেখা যায়৷ মূলত এই অংশের স্ক্রিনশট নিয়েই দাবিটি প্রচার করা হয়।

এই ছবির সূত্র ধরে অনুসন্ধানে ‘Reform Bangladesh: Justice, Democracy, Bangladesh‘ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক ভিডিওতে একই ব্যক্তিকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। ভিডিও সূত্রে জানা যায়, তিনি ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, যিনি যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক একটি নবীন এবং প্রগতিশীল অরাজনৈতিক সংগঠনের চেয়ারপারসন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্যবসায়িক তথ্য ও কোম্পানি-ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম ইন্ডোল ওপেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিফর্ম বাংলাদেশ লিমিটেড গত বছরের ২১ আগস্ট নিবন্ধন হওয়া একটি সক্রিয় কোম্পানি, যার নিবন্ধিত কার্যালয় গ্রেটার লন্ডনের লন্ডনে অবস্থিত।

সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ হিমেল রিউমর স্ক্যানারকে জানান, ব্যারিস্টার আতাউর রহমান লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন অত্যন্ত সম্মানিত ও সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব।

এ বিষয়ে আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিউমর স্ক্যানারকে নিশ্চিত করেন, উক্ত ব্যক্তি তিনিই।

আতাউর রহমান বলছেন, “আমি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলাম (বামপন্থী জেএসডি, তারপর বসোদ এবং তারপর যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রয়াত আব্দুল মালেক রতনের সাথে ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত যুগ্ম আহ্বায়ক)।”

দাবি প্রসঙ্গে তিনি জানান, “এটি কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য নয়। এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর চরিত্র হনন। (এ বিষয়ে) আমার কোনো মন্তব্য নেই, কিন্তু যারা এই বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াচ্ছেন, এই ধরনের ভুল পরিচয়ের জন্য তাদের আরও যুক্তিসঙ্গত ও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।”

সুতরাং, রিফর্ম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আতাউর রহমানকে চৌধুরী মঈনুদ্দীন দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

  • Statement 
  • Reform Bangladesh: Justice, Democracy, Bangladesh: Facebook Video
Share: