সম্প্রতি, ‘লোকটা আওয়ামী লীগ করার জন্য তার বাড়িঘর ভাঙচুর করতাছেপ্রবাসীর স্ত্ৰীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন যুবদল সভাপতি রফিক!!’ শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি প্রবাসীর স্ত্রীকে যুবদল সভাপতির তুলে নেওয়ার কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, প্রকৃতপক্ষে, এটি পটুয়াখালিতে এক গৃহবধূকে তার স্বামী ও শ্বশুরের নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘প্রিয় চাঁদপুর – Priyo Chandpur’ এর ফেসবুক পেজে গত ১০ জুন প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফুটেজের মিল রয়েছে।

উক্ত পোস্টের ক্যাপশন থেকে জানা যায়, ভিডিওটি গত ১০ জুন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় সংঘটিত একটি ঘটনার। সেখানে পাশবিক নির্যাতনের পর এক গৃহবধূকে টমটমে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের পর তার হাত-পা বেঁধে তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তার স্বামী ও শ্বশুর। তবে সকালে স্থানীয়দের বাধায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরকে হেফাজতে নেয়।
এছাড়া, প্রথম আলোর ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত ঘটনার ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে গত ১০ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের লিপি আক্তার নামের এক গৃহবধূকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে তার স্বামী ও শ্বশুরকে পুলিশ আটক করে । দশমিনা থানা ওসি মো. আতিকুল ইসলামের বরাতে বলা হয়, ভুক্তভোগী লিপির স্বামী শাহজামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে আমাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোতেও সংবাদ (১, ২, ৩) প্রকাশ করা হয়েছে।
সুতরাং, পটুয়াখালীতে স্বামী ও শ্বশুর কর্তৃক এক গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনার ভিডিওকে প্রবাসীর স্ত্রীকে যুবদল সভাপতির তুলে নেওয়ার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- প্রিয় চাঁদপুর – Priyo Chandpur – Facebook Post
- Ittefaq – গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যাচ্ছিলেন স্বামী-শ্বশুর, স্থানীয়দের বাগড়া


