‘শিবির দ্বারা ধর্ষণ আতঙ্কে ভুগছেন’ শিরোনামে মাহমুদা মিতুকে জড়িয়ে কালের কণ্ঠের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতুকে উদ্ধৃত করে ‘শিবির দ্বারা ধর্ষণ আতঙ্কে ভুগছেন’ শিরোনামে দৈনিক গণমাধ্যম কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু এমন কোনো মন্তব্য করেননি এবং কালের কণ্ঠও এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় কালের কণ্ঠ কর্তৃক প্রকাশিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে দৈনিক পত্রিকা কালের কণ্ঠের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ১ মে, ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।
উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে, কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজে গত ১ মে ‘ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি: মাহমুদা মিতু’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।
উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির সাথে প্রচারিত ফটোকার্ডের তারিখ, কালের কণ্ঠের লোগো এবং মাহমুদা মিতুর ছবির মিল রয়েছে। তবে, উভয়ের শিরোনামে ভিন্নতা রয়েছে। কালের কণ্ঠের ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল রয়েছে।

অর্থাৎ, কালের কণ্ঠের এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
মূল ফটোকার্ড সংবলিত কালের কণ্ঠের ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ বাসার ঠিকানা প্রকাশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু। এছাড়া, মাহমুদা মিতু একটি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, একজন প্রার্থীর বাসার পূর্ণ ঠিকানা এভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া কতটা যৌক্তিক? খুব ভালোবেসেই একজন বাসার নিচে এসে কল দিলো। কিন্তু এত অবাক হয়েছি যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। নির্বাচন কমিশনের ওপেন করে দেওয়া ঠিকানা দেখে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কল দিয়েছেন….।
সুতরাং, ‘শিবির দ্বারা ধর্ষণ আতঙ্কে ভুগছেন: মাহমুদা মিতু’ শিরোনামে কালের কণ্ঠের নামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Kaler Kantho – Facebook Page
- Kaler Kantho – Website
- Kaler Kantho – YouTube Channel
- Kaler Kantho – Facebook Post
- Rumor Scanner’s Own Analysis

