হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে জামায়াত-বিজেপিকে জড়িয়ে মমতার নামে প্রচারিত মন্তব্যটি ভুয়া

সম্প্রতি, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় “জামায়াত ইসলামীকে দিয়ে ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছে ভারতের বিজেপি সরকার। আমি যদি সব সত্য কথা বলেদি, তাহলে বাংলাদেশ সব লন্ডভন্ড হয়ে যাবে।” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি তথ্য প্রচারিত হতে দেখা যায়।
ফেসুবকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
টিকটকে প্রচারিত একই পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচিত মন্তব্যটি করেননি। তবে বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর তার করা এক জনসভায় তিনি হাদি হত্যাকাণ্ডের সাথে ভারতের সংশ্লিষ্টতা আছে এমন ইঙ্গিত করে বক্তব্য প্রদান করেন। যেটিকে ভিত্তি করে আলোচিত এই দাবি প্রচার করা হয়েছে
আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে দেশিয় কিংবা ভারতীয় কোনো গণমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন মন্তব্য করার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে হারের পর গত ২ জুন কলকাতার ধর্মতলায় প্রথম জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উক্ত জনসভা তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘দেশের স্বার্থে’ এ বিষয়ে মমতার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মুখ খুলতে নিষেধ করেন। মমতা বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? সবটাই জানি।’
সেদিন এ বিষয়ে তার নানা মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হলেও তার আলোচিত মন্তব্যটি করার বিষয়ে কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে সেদিনের জনসভার একটি ভিডিও ফুটেজও খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু সেখানেও তাকে আলোচিত মন্তব্যটি করতে শোনা যায়নি।
সুতরাং, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় “জামায়াত ইসলামীকে দিয়ে ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছে ভারতের বিজেপি সরকার। আমি যদি সব সত্য কথা বলেদি, তাহলে বাংলাদেশ সব লন্ডভন্ড হয়ে যাবে।” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Prothom Alo: বাংলাদেশে কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, সবটাই জানি: ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে মমতা
- BBC News বাংলা: Facebook Post

