হাসনাত আবদুল্লাহ ও আসিফ মাহমুদ গ্রেফতার দাবিতে এআই ছবি ব্যবহার করে যমুনা টিভির নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার 

সম্প্রতি,“গ্রেফতার হলেন হাসানাত আব্দুল্লাহ ও আসিফ মাহমুদ।” শীর্ষক দাবিতে যমুনা টেলিভিশনের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক


রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘গ্রেফতার হলেন হাসানাত আব্দুল্লাহ ও আসিফ মাহমুদ।’ শিরোনামে যমুনা টিভি কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, যমুনা টিভির ফটোকার্ডের ডিজাইনের আদলে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তার আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে এবং ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে যমুনা টিভির নাম ও লোগো রয়েছে।

পরবর্তীতে যমুনা টিভির ফেসবুক পেজ প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, যমুনা টিভির ওয়েবসাইট ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি অন্য কোনো গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবিটির বিষয়ে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত শিরোনামের ফন্টের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের অমিল রয়েছে। পাশাপাশি, ফটোকার্ডের নিচে ব্যবহৃত যমুনা টিভির ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও ইউটিউব লিংকেও ভুল পরিলক্ষিত হয়।

অর্থাৎ, যমুনা টিভির ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করে এই ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

ছবি যাচাই

প্রচারিত ছবিটি পর্যবেক্ষণ করলে ব্যক্তিদের মুখাবয়ব ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে দেখা যায়।

বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে গুগলের এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট জেমিনির বিশ্লেষণেও দেখা যায়, আলোচিত ছবিটি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে।

সুতরাং, “গ্রেফতার হলেন হাসানাত আব্দুল্লাহ ও আসিফ মাহমুদ।” শীর্ষক শিরোনামে যমুনা টিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া ও বানোয়াট এবং ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটি এআই নির্মিত।

তথ্যসূত্র

Share: