অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে নয়, হাসনাত-সাদিক লন্ডনে গিয়েছেন ছাত্র সংগঠনের আমন্ত্রণে

গতকাল (১৫ জুন) কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ‘শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থান এবং বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে যে, আলোচনাটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে সেখানে অংশ নিতে গিয়েছেন।

ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন দেখুন– ডেইলি ক্যাম্পাস, মিরর নিউজ, গণকণ্ঠ

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।

ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

এছাড়া, সাদিক কায়েম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায়ও দাবি করেছেন, তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছেন।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সাদিক কায়েম প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন বলে প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, প্যানেল আলোচনাটি অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি ও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অক্সফোর্ড ইউনিয়ন হলো অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত বিশ্বের অন্যতম ও প্রাচীন ডিবেটিং সোসাইটি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে তা সাধারণত তাদের ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম এবং ওয়েবসাইটে প্রচার করে থাকে। তবে আলোচ্য প্যানেল আলোচনা আয়োজন সংক্রান্ত কোনো তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হ্যান্ডেলগুলোতে পাওয়া যায়নি।

তবে, বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বতন্ত্র সংগঠন অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১৪ জুন প্রকাশিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টের ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘THE STUDENT LED UPRISING & THE FUTURE OF POST REVOLUTIONARY BANGLADESH’, অর্থাৎ ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। পোস্টটির ক্যাপশনে প্যানেল বক্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য একটি গুগল ফর্মের লিংক যুক্ত করা হয়। ফর্মটির শিরোনামে লেখা রয়েছে ‘Oxford Union-Bangla Society Bangladesh Panel: Meet and Greet’।

উক্ত সূত্র ধরে অনুসন্ধানে Oxford Bangla Society নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। অ্যাকাউন্টটি থেকে গত ১৪ জুন প্রকাশিত একটি পোস্টে জানানো হয়, অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির উদ্যোগে ১৪ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ‘শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থান এবং বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পোস্ট অনুযায়ী, উক্ত আলোচনায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন- হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাবিলা ইদ্রিস, সাদিক কায়েম এবং আলিয়ার হোসেন।

অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, এটি অক্সফোর্ডে অধ্যয়নরত বাঙালি ও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সংগঠন, যার লক্ষ্য বাংলা সংস্কৃতির প্রচার ও বিকাশ।

অন্যদিকে, অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ১৮২৩ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন সংগঠন। এটি বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিতর্কসভা হিসেবে পরিচিত।

অর্থাৎ, উক্ত প্যানেল আলোচনার সঙ্গে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এছাড়া, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত সংবাদমাধ্যম চারওয়েল-এর ওয়েবসাইটে গত ১৪ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির আয়োজনে “The Student Led Uprising and the Future of Post Revolutionary Bangladesh” শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা চলাকালে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বাইরে বিক্ষোভ ও পাল্টা বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু হওয়া আলোচনায় জুলাই ২০২৪ সালের বাংলাদেশি গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, যেমন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ অংশ নেন। প্রায় ৪০০ জন বিক্ষোভকারী ও পাল্টা বিক্ষোভকারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এছাড়া, অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত চিঠি অনুযায়ী, হাসনাত আব্দুল্লাহকে ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি ও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের যৌথ আয়োজনে ‘জুলাই বিপ্লব ও বাংলাদেশে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন’ বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

সুতরাং, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সাদিক কায়েম প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন বলে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: