আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সেনাবাহিনীর কার্যকর ভূমিকা না নেওয়ার দাবিতে ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নেতাকর্মীদের কর্মসূচি প্রতিহত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের কয়েকটি স্থানে ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল ২২ জুন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন সেনা কর্মকর্তার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচী ঘিরে সেনাবাহিনী কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।

প্রচারিত ভিডিওটিতে ওই সেনা কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, “সেনাবাহিনী কোন ব্যক্তি বা দলের পক্ষে নয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় ন্যায়ের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিপক্ষে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের পক্ষে।”

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

একই দাবিতে আরেক সেনা কর্মকর্তার ভিন্ন আরেকটি ভিডিও ফুটেজও প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার। ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচী ঘিরে সেনাবাহিনী কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখবে না জানিয়েছে দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত বছরের দুইটি ভিন্ন প্রেস কনফারেন্সের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত দাবিগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যমে কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো সেনা কর্মকর্তাকে বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংক্রান্ত কর্মসূচি প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভিডিও যাচাই ১

ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম সমকালের ফেসবুক পেজে গত বছরের ৭ নভেম্বর প্রচারিত মূল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত ভিডিওটির ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে তাকে আলোচিত মন্তব্যটি করতে শোনা যায়। জানা যায়, ভিডিওটি সে সময় গাজীপুরের শ্রীপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ সাতজন আটক হওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সেনাবাহিনীর সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও এটি। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ১৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির অধিনায়ক লে. কর্নেল লুৎফর রহমানকে কথা বলছেন বলেও জানা যায়। তবে সংবাদ সম্মেলনর কোথাও লে. কর্নেল লুৎফর রহমানকে আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো কথা বলে শোনা যায়নি।

ভিডিও যাচাই ২

সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানকে জড়িয়ে প্রচারিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে গত বছরের ১১ অক্টোবর নিউজ২৪ এর ইউটিউব চ্যানেলে মূল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়।

ভিডিওটিতে মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানকে ‘বাংলাদেশ আর্মি একদম স্পষ্ট ভাষায় বলে দিচ্ছি, বাংলাদেশ আর্মি জাস্টিসের পক্ষে। যেটা জাস্টিস হবে সেটার পক্ষে আমরা থাকবো। ইনসাফ, নো কমপ্রমাইজ উইথ ইনসাফ। কাম হোয়াটস মেবি জাস্টিসের পক্ষে আমরা অবশ্যই অবশ্যই স্ট্যান্ডফাস্ট এবং দৃঢ়।’ শীর্ষক কথাগুলো বলতে শোনা যায়। এর সাথেও আওয়ামী লীগের উল্লিখিত কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়না।

প্রাপ্ত ভিডিওটিতেও মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান কোন প্রেক্ষিতে এমন মন্তব্য করেছেন সেটি জানতে পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার। অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে গত বছরের ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ আর্মি বিচারের পক্ষে : সেনাসদর শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ১১ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান গুম কমিশনকে প্রয়োজনী নথীপত্র দিয়ে আর্মির সহযোগিতা করার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আলোচিত মন্তব্যটি করেন। যা থেকে স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছে মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানের আলোচিত ভিডিওটির সাথে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই।

অর্থাৎ, আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সেনাবাহিনী কার্যকর ভূমিকা পালন করবেনা দাবিতে ভিত্তিহীনভাবে সেনাবাহিনীর ভিন্ন ভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

সুতরাং, পুরোনো দুই ভিডিও ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সেনাবাহিনী কার্যকর ভূমিকা পালন করবে না দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: