গাইবান্ধায় জমি বিরোধে হত্যাকাণ্ডের ভিডিওকে যুবদল নেতা কর্তৃক ছাত্রলীগ কর্মী হত্যার দাবিতে প্রচার

সম্প্রতি, গাইবান্ধায় মাহির নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে স্থানীয় যুবদল নেতা হত্যা করেছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার। ভিডিওটিতে দেখতে পাওয়া যায়, একদল উত্তেজিত জনতা বাড়িঘর ভাঙচুর করছেন। পোস্টটিতে দাবি করা হয়, গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাহিরকে হত্যাকারী ওই যুবদল নেতার বাড়িঘর ভাঙচুরের দৃশ্য এটি।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ছাত্রলীগ কর্মীকে যুবদল নেতার হত্যার কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি গাইবান্ধায় জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে কলেজছাত্রকে প্রতিবেশীর হত্যার ঘটনায় তার বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনার।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যালোচনা করে এতে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম DBC News-এর লোগো দেখতে পায় রিউমর স্ক্যানার। এ বিষয়ে অনুসন্ধানে DBC News-এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ৮ জুন একই ভিডিওটি প্রকাশিত হতে দেখা যায়।

পরবর্তীতে উক্ত ঘটনায় অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিহত কলেজছাত্রের নাম মাহির নয়, বরং ফাহমিদ রুমন। এছাড়াও প্রতিবেদনে কোথাও নিহত ব্যক্তিকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো যুবদল নেতা বা রাজনৈতিক বিরোধের সংশ্লিষ্টতার তথ্যও পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে গাইবান্ধা সদর উপজেলার পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামে। পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের হাজী ছানা মিয়ার ছেলে রাকিবের সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত ফারুক মিয়ার ছেলে রুহিতের দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে রবিবার রাতে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে রাকিব ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুহিতের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বড় ভাইকে বাঁচাতে ছোট ভাই রুমন এগিয়ে এলে তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রুহিতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় রাকিবের মা বেবি বেগম ও স্ত্রী ইতি বেগমকে আটক করা হলেও অভিযুক্ত রাকিব পলাতক রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়।

আলোচিত দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে গাইবান্ধা সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসাদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিউমর স্ক্যানারকে জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই হয়েছে। তাদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা উক্ত ঘটনার সাথে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো তথ্য পুলিশ পায়নি বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

সুতরাং, গাইবান্ধায় জমির সীমানা নিয়ে বিরোধে কলেজছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনাকে “ছাত্রলীগ কর্মীকে যুবদল নেতা হত্যা করেছে” দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: