কামালপুর সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশইনের’ শিকার ব্যক্তি ‘মুসলিম অনুপ্রবেশকারী’ নন, তিনি বাংলাদেশি হিন্দু নাগরিক

গত ১০ জুন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্ত দিয়ে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করার চেষ্টা করে। পরদিন ১১ জুন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কামালপুর সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকা থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং তাকে বকশীগঞ্জ থানার হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় ওই ব্যক্তিকে ঘিরে বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে হওয়া বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, ভারত একজন বাংলাদেশি ‘মুসলিম অনুপ্রবেশকারীকে’ জোরপূর্বক ফেরত পাঠিয়েছে (পুশব্যাক) এবং বাংলাদেশ তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকা পড়ে আছেন।
উক্ত দাবির এক্স (টুইটার) পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, কামালপুর সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশইনের’ শিকার ব্যক্তিকে ‘মুসলিম অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি সঠিক নয়। তিনি বাংলাদেশি নাগরিক হলেও মুসলিম নন। তার নাম ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন। তিনি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চান্দলাই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসিন্দা। পেশায় তিনি মৎস্যজীবী ও কৃষক ছিলেন।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গত ১১ জুন প্রকাশিত সমকালের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রায় ২৪ ঘণ্টা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানের পর বিজিবি তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানার হেফাজতে নেয়। পরবর্তী সময়ে বিজিবি নিশ্চিত করে যে, ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন একজন বাংলাদেশি নাগরিক। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি নিয়মিত কোনো কাজ করতেন না এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগে তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার সন্ধান পাননি।
একই বিষয়ে ১১ জুন প্রকাশিত বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিএসএফ নো- ম্যানস ল্যান্ডে আটকে থাকা ব্যক্তিকে কামালপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশইনের’ চেষ্টা করেছিল, তার বাড়ি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চান্দলাই গ্রামে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা মি. হোসেন জানান, ওই ব্যক্তির নাম ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন। তার পিতার নাম বাবু চন্দ্র বর্মন এবং মাতার নাম কমলা রানী। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করেও একই পরিচয় পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।
এছাড়া, এ ঘটনার পর ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে দেশের একাধিক গণমাধ্যমে (১,২,৩) সংবাদ প্রকাশিত হয়, যেখানে তাকে বাংলাদেশি হিন্দু নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
সুতরাং, কামালপুর সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকে থাকা বাংলাদেশি হিন্দু ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে, যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Samakal – মানসিক অসুস্থতায় হারিয়ে গিয়েছিলেন ষষ্ঠী: পরিবার
- BBC News Bangla – জামালপুরের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে থাকা সেই বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে

