প্রথম আলো’র পৃষ্ঠাসজ্জা সম্পাদনা করে ভুল তথ্য প্রচার

অন্তত ২০২৩ সাল থেকে “কবে বিয়ে করবে’ বার বার জিজ্ঞেস করায় প্রতিবেশীকে বেধড়ক মারপিট” শীর্ষক শিরোনামে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো’র প্রিন্ট ভার্সনে প্রকাশিত প্রতিবেদন দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়ে আসছে।

প্রথম আলো'র

উক্ত ছবি ব্যবহার করে সাম্প্রতিক সময়ে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

২০২৩ সালে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন, এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রথম আলো’র অনলাইন কিংবা প্রিন্ট ভার্সনে উক্ত দাবিতে কোনো সংবাদ প্রকাশিত হয়নি বরং ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথম আলো’র প্রিন্ট ভার্সনে প্রকাশিত সংবাদ জমিনের জায়গা সম্পাদনা করে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

গুজবের সূত্রপাত

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে E J Emon Khan নামক ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে ২০২৩ সালের ২ এপ্রিলে এ সংক্রান্ত সম্ভাব্য প্রথম ফেসবুক পোস্টটি খুঁজে পাওয়া যায়।

কিন্তু ছবিতে থাকা “কবে বিয়ে করবে’ বার বার জিজ্ঞেস করায় প্রতিবেশীকে বেধড়ক মারপিট” শীর্ষক তথ্যে প্রাসঙ্গিক একাধিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করেও গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে উক্ত দাবির পক্ষে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রথম আলো কি এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করেছে?

অনুসন্ধানে ‘প্রথম আলো’র ই-পেপার’র ওয়েবসাইটে ২০২১ সালের ১৮ আগস্ট তারিখের প্রকাশিত পত্রিকার সাথে আলোচিত ছবিটির একাধিক বিষয়বস্তুর মিল পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার টিম।

সেদিনের পত্রিকার প্রথম পেজের লে-আউট, প্যানেল এবং এয়ার-প্যানেলের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পত্রিকার ছবির মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

তবে সেদিনের প্রথম আলোর প্রিন্ট ভার্সনের প্রথম পৃষ্ঠাসহ পুরো পত্রিকায় “কবে বিয়ে করবে’ বার বার জিজ্ঞেস করায় প্রতিবেশীকে বেধড়ক মারপিট” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, প্রথম আলো’র প্রিন্টে “কবে বিয়ে করবে’ বার বার জিজ্ঞেস করায় প্রতিবেশীকে বেধড়ক মারপিট” শীর্ষক শিরোনামে আলোচিত শিরোনামটি পত্রিকার পৃষ্ঠাসজ্জা ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার সাহায্যে বসানো হয়েছে।

পরবর্তী ঘটনাটির বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেশিয় অনলাইন পোর্টাল বাংলানিউজ২৪ এর ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি “বিয়ে নিয়ে ঠাট্টা করায় প্রতিবেশীকে খুন!” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। 

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইন্দোনেশিয়ার কামপুংয়ের পাসির জঙ এলাকার বাসিনা ফাইজ নুরদিন নামক এক যুবককে প্রতিবেশী নারী আইশা মজার ছলে জিজ্ঞেস করেন ‘কবে বিয়ে করছেন? সবাই তো বিয়ে করে ফেললো!’ জিজ্ঞাসা করলে সেই যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে শ্বাসরোধ করে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে হত্যা করেন।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক গণমাধ্যম ‘Khaleej Times’ এর ওয়েবসাইটে সেসময় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা জানা যায়।

কথিত সংবাদটির সাথে ছবিটি কোন ঘটনার?

প্রচারিত সংবাদের সাথে সংযুক্ত ছবিটির বিষয়ে জানতে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে কুমিল্লা থেকে প্রচারিত দৈনিক আজকের কুমিল্লা’র ওয়েবসাইটে ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত প্রথম আলো’র প্রিন্টের উল্লিখিতে মানুষের ছবিটির মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান ধারালো দা দিয়ে নিজ পরিবারের সদস্যসহ এলাকার আরও কয়েকজনকে কুপিয়ে হত্যা ও আহত করে। যার কারণে সেই এলাকার মানুষের মাঝে উদ্বিগ্নতা ও ভীতি বিরাজ করে।

মূলত, “কবে বিয়ে করবে’ বার বার জিজ্ঞেস করায় প্রতিবেশীকে বেধড়ক মারপিট” শীর্ষক শিরোনামে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো’র প্রিন্ট ভার্সনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ছবি দাবিতে অন্তত ২০২৩ সাল থেকে একটি ছবি ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রথম আলোতে উক্ত শিরোনামে কোনো সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ২০২১ সালের ১৮ আগস্ট প্রথম আলো’র প্রিন্ট সংস্করণের প্রথম পাতার ছবি এডিট করে উক্ত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ভিত্তিহীন একটি সংবাদের সাথে কুমিল্লার ভিন্ন আরেকটি ঘটনার ছবি জুড়ে দিয়ে কথিত এই সংবাদটি প্রথম আলোর সেদিনের প্রিন্ট সংস্করণের প্রথম পাতায় ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে।

সুতরাং, প্রথম আলো’র প্রিন্ট সংস্করণের পৃষ্ঠাসজ্জায় “কবে বিয়ে করবে বার বার জিজ্ঞেস করায় প্রতিবেশীকে বেধড়ক মারপিট” শীর্ষক ভুয়া সংবাদ এবং ভিন্ন ঘটনার একটি ছবি যুক্ত করে ইন্টারনেটে প্রচার হয়ে আসছে; যা এডিটেড বা বিকৃত।

তথ্যসূত্র

Share: