সম্প্রতি, রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলের আরোহীর মাথায় ইট মেরে বাইক নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। উক্ত ঘটনায় ওই আরোহীকে হত্যা করা হয়েছে দাবিতে ‘মাথায় ইট মেরে হত্যার পর বাইক ছিনতাইয়ের দৃশ্য!!’ ক্যাপশনে ওই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ঘটনায় ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্যটি সঠিক নয়। আহত সাজিদ চৌধুরী রাফি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে, কোনো প্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই তার মৃত্যুর দাবি প্রচার করা হয়েছে।
মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলের আরোহীর মাথায় ইট মেরে বাইক নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি দেশব্যাপী বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার ভুক্তভোগী ব্যক্তির মৃত্যু হলে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে সংবাদ প্রচারিত হতো। কিন্তু গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে আলোচিত দাবিতে কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অনসন্ধানে বাংলানিউজ২৪ এর ওয়েবসাইটে গত ১২ জুন ‘মাথায় ইটের আঘাত, আইসিইউতে বাইকার রাফি’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটা এই হামলার ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় অচেতন সাজিদ চৌধুরী রাফিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে, এ বিষয়ে সর্বশেষ ১৬ জুন প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে ‘সাজিদকে ইট মেরে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়ার দৃশ্য সিসিটিভির ফুটেজে, এখন আইসিইউর সামনে মায়ের অপেক্ষা’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পরিবারের লোকজন সাজিদকে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এটা ‘পুলিস কেস’ উল্লেখ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডিএমসি) যেতে বলা হয়। পরে ডিএমসির নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথায় অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তিনি ডিএমসিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সাজিদের অবস্থা সংকটাপন্ন। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে সাজিদের চেতনার মাত্রা গ্লাসগো কোমা স্কেল (জিসিএস) অনুযায়ী ৭। জিসিএসের স্বাভাবিক মাত্রা ১৫।
সুতরাং, শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় ইট মারার ঘটনায় আহত ব্যক্তির মৃত্যুবরণের দাবিটি বিভ্রান্তিকর।


