আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ সরকারকে জড়িয়ে শিশির মনিরের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

গত ১১ জুন ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ‘লাইসেন্স বাতিল’ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই প্রেক্ষাপটে, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির ‘ভারতের লাভের জন্য আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। যাতে রোগীরা দেশে চিকিৎসা নিতে না পেরে ভারতে যায়। হাসপাতালে ৬ শিশু মৃত্যুর ঘটনা আদতে কোনো কারণ নয়’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও শিশির মনিরের ছবি সংযুক্ত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শিশির মনির এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, একটি স্যাটায়ার পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টকে সত্য ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যালোচনায় দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ডে অনুসন্ধান করলেও বিশ্বস্ত গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবিটির সমর্থনে কোনো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি।

আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের সূত্রপাতের বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Daily Mollar Desh’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১২ জুন আলোচিত ফটোকার্ডটি পোস্ট হতে দেখা যায়। ‘Daily Mollar Desh’ পেজটি পর্যবেক্ষণ করে এর পরিচিতি পর্বে স্যাটায়ার এবং প্যারোডি’ শীর্ষক তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।

পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এরূপ আরো অনেক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট পাওয়া যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আলোচিত পোস্টটিও মূলত ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়া, শিশির মনিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করেও এমন কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন শিশির মনিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে করা এক পোস্টে দাবি করা হয়, ‘আদ-দীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেনি কর্তৃপক্ষ। বাতিল করেছে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স।’

সুতরাং, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারকে জড়িয়ে আইনজীবী শিশির মনিরকে উদ্ধৃত করে প্রচারিত মন্তব্যটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: