সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কালো রঙের একজন নারীর একটি স্টেডিয়ামে বসে থাকার ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘ম্যাচ চলাকালে মায়াবী কালো মেয়ের মায়ায় পড়লেন দর্শকরা’।

এরূপ দাবিতে সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রচারিত পোস্ট : কুষ্টিয়া টাইমস।
এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত নারী কোনো আসল ব্যক্তি নন। প্রকৃতপক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি ভার্চুয়াল এক চরিত্রের ভিডিও আসল নারী দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘jeyla_shore’ ইউজারনেমের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গত ৩১ মে তারিখে আলোচিত মূল ভিডিওটি প্রচার হতে দেখা যায়।

উক্ত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ও একই নামের টিকটক অ্যাকাউন্টে একই নারীর আরো নানা ভিডিও পাওয়া যায়। টিকটক অ্যাকাউন্টটির বায়োতে উল্লেখ পাওয়া যায়, এই Jeyla Shore একজন ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার এবং ‘aceaispark.com’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। উক্ত প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি এআই এর সাহায্যে নানা কনটেন্ট তৈরিতে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিচালনায় সহায়তা করে থাকে।
পাশাপাশি, প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে তাতে কিছু অসংগতি লক্ষ্য করা যায়। যেমন: কথিত নারীর ত্বক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা অস্বাভাবিকভাবে সিনেম্যাটিক ও মসৃণ। পাশাপাশি, মুখ পুরোপুরি কালো রঙের হলেও হাত হালকা বাদামী রঙের। এসব অসংগতি সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি কনটেন্টে দেখা যায়।
পরবর্তীতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই কনটেন্ট যাচাইকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ ডিটেক্ট’ এ যাচাই করলে ভিডিওটি এআই তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ দেখা যায়।
সুতরাং, স্টেডিয়ামে মায়াবী কালো নারী দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি।
তথ্যসূত্র
- Jeyla Shore – Instagram Post
- Hive Detect
- AI Analysis


