সম্প্রতি, বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিরা জেল থেকে মুক্ত থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় একটি ইয়ামাহা শোরুমে ডাকাত ঢুকে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট করেছে শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবির ফেসবুক ভিডিও দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভারতের বিহার রাজ্যে একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল শোরুমের ম্যানেজারকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে বাংলাদেশের ঘটনা দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ‘Navbharat Times’ এর ওয়েবসাইটে গত ১৫ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে আলোচিত ভিডিওটির দৃশ্যের মিল রয়েছে।

প্রতিবেদনটির বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১২ জুন ভারতের বিহার রাজ্যের দারভাঙ্গার চন্দনপট্টি চকের কাছে একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল শোরুমের ম্যানেজারকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোনু পাসওয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা যাচ্ছে, চাকরি হারানোর কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি শোরুমের ম্যানেজারের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল।
আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ভারতীয় আরেক সংবাদ মাধ্যম ‘Aaj Tak’ এর ইউটিউব চ্যানেলেও গত ১৪ জুনে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। এছাড়া, সহিংসতা ও বীভৎস কন্টেন্টভিত্তিক ওয়েবসাইট গোরসেন্টারেও গত ১২ জুনে উক্ত ঘটনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হতে দেখা যায়। প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণেও একই তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, এটি বাংলাদেশে ঘটা কোনো ঘটনার দৃশ্য নয় তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে।
সুতরাং, ভারতের বিহারে একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল শোরুমের ম্যানেজারকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ভিডিওকে বাংলাদেশের ঘটনা দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Navbharat Times: Website News
- Aaj Tak: YouTube Video
- GoreCenter: Website News


