‘প্রধানমন্ত্রীকে আমরাও ভোট দিয়েছি’— উক্তিটি মারদিয়া মমতাজের নিজের নয়

সম্প্রতি, জাতীয় সংসদর সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মারদিয়া মমতাজ “প্রধানমন্ত্রীকে আমরাও ভোট দিয়েছি। আমি নিজেও একটি বেসরকারি চাকরিতে ছিলাম। আশা করব, সরকারি পে-স্কেলের পাশাপাশি বেসরকারি পে-স্কেলের বিষয়েও কিছু নির্দেশনা আসুক।” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন বলে কতিপয় গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন: ডিবিসি নিউজ (ফেসবুক), এনপিবি নিউজ (ফেসবুক), দীপ্ত টিভি (ফেসবুক)।
একই দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন কাঠেরকেল্লা।
একই দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, “প্রধানমন্ত্রীকে আমরাও ভোট দিয়েছি।” এই মন্তব্যটি মারদিয়া মমতাজের নিজের নয়। বরং তিনি এক নারীর তাকে বলা উক্ত মন্তব্য সংসদের সামনে তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৪ জুনের অধিবেশনের লাইভ ভিডিওতে মারদিয়া মমতাজের বক্তব্যের অংশ খুঁজে পাওয়া যায়৷ ভিডিওর ৫৯ মিনিট সময় থেকে তার বক্তব্য শুরু হয়৷ বক্তব্যের ১ ঘন্টা ১ মিনিট সময় থেকে তাকে বলতে দেখা যায়, “মাননীয় স্পিকার, আমি গতকাল একটি ফোনকল পেয়েছি। একজন মা আমাকে ফোন করেছেন৷ উনি সম্ভবত কোথাও থেকে আমার নাম্বার পেয়েছেন। উনি কাঁদছিলেন। উনি বেসরকারি চাকরি করেন। তিনি বলছিলেন যে, আপা আপনি সংসদে একটু বলবেন যে প্রধানমন্ত্রীকে আমরাও ভোট দিয়েছি। কিন্তু আমাদের জন্য তো কোনো নির্দেশনা নাই।”
মারদিয়া মমতাজ এরপর বলেন, “আমি নিজেও এখানে আসার আগে একটি বেসরকারি চাকরিতে ছিলাম। আমরা জানি, কী অমানবিক আচরণ এই বেসরকারি চাকুরেদের সাথে করা হয়। তাদের জন্য এখানে কোনো নির্দেশনা নাই। আমি আশা করব, সরকারি পে-স্কেলের পাশাপাশি বেসরকারি পে-স্কেলের বিষয়েও কিছু নির্দেশনা আসুক। এটার অভাবেই সরকারি চাকরিতে চান্স পাওয়ার জন্য এই ঘুষ বাণিজ্য নিয়োগ বাণিজ্য হয়ে থাকে৷”
সংসদে মারদিয়া মমতাজ মমতাজের দেওয়া বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, “প্রধানমন্ত্রীকে আমরাও ভোট দিয়েছি।” এই মন্তব্যটি তার নিজের নয়। বরং তিনি এক নারীর তাকে বলা উক্ত মন্তব্য সংসদের সামনে তুলে ধরেন।
সুতরাং, প্রধানমন্ত্রীকে আমরাও ভোট দিয়েছি’— উক্তিটি মারদিয়া মমতাজের নিজের শীর্ষক দাবি বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Bangladesh Parliament: Live Video

