ঢাকা লকডাউন কর্মসূচী ঘিরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জড়িয়ে ডিপফেক ভিডিও ভাইরাল

আগামী ১৩ নভেম্বর রাজধানী ঢাকা লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এর প্রেক্ষিতে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ১৩ নভেম্বর যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেছেন দাবিতে তার এ সংক্রান্ত বক্তব্য সম্বলিত একটি কথিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ফেসবুকেই অন্তত দেড় মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে। ১৫ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে জনাব সাজ্জাতের কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, “আজকে আমরা বিএনপির একজনকে বাসে আগুন দেওয়ার সময় আটক করেছি। তারা আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর জন্য এইসব করছে৷ সকল বাস ও ট্রাক সমিতির মালিকদের অনুরোধ করছি, দয়া করে ১৩ তারিখে আপনাদের যানবাহন বন্ধ রাখুন।”

ভিডিওটি ফেসবুকে দেখুন এখানে, এখানে। একই ভিডিও টিকটকে দেখুন এখানে।

অপর একটি ভিডিওতে পুলিশের একজন কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের কাছে খবর আছে, এখন পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি সমন্বয়ক পদত্যাগ করেছে এবং তারা আওয়ামী লীগের লকডাউন সমর্থন জানিয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়েছি আগামীকাল ১৩ তারিখ বিএনপি এবং শিবির যানবাহনে আগুন দিবে এবং এর দায়ভার আওয়ামী লীগের ওপর চাপাবে।” ফেসবুকে অন্তত দুই লক্ষাধিক বার দেখা হয়েছে ১৫ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি।

উক্ত দাবির ফেসবুক ভিডিও দেখুন এখানে।

টিকটকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিও দুটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই দুই ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।

প্রথম ভিডিও যাচাই


এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম বা বিশ্বস্ত সূত্রে আলোচিত দাবিটির বিষয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূল ধারার গণমাধ্যম নিউজ২৪ এর ফেসবুক পেজে গতকাল (১২ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সংবাদ সম্মেলনের একটি লাইভ ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির সাথে আলোচিত ভিডিওর সকল উপাদানের মিল রয়েছে।

ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত কয়েক দিনে ঢাকায় কয়েকটি বাসে আগুন এবং বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘিরে জনমনে সৃষ্ট আতঙ্কের মধ্যে শেখ মো. সাজ্জাত আলী সংবাদ সম্মেলনে আসেন। সাংবাদিকদের সামনে তিনি রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার নিয়ে কথা বলেন। তবে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে তাকে ১৩ নভেম্বর যানবাহন চলাচল বন্ধের অনুরোধ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি।

পরবর্তীতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে এর পারিপার্শ্বিক উপাদানেও খানিকটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে পরিলক্ষিত হয়।

ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় নির্মিত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘ডিপফেক-ও-মিটার’ এর ‘AVSRDD (2025)’ মডেলের মাধ্যমে ভিডিওটি পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। মডেলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।

দ্বিতীয় ভিডিও যাচাই


এ বিষয়ে অনুসন্ধানেও গণমাধ্যম বা বিশ্বস্ত সূত্রে আলোচিত দাবিটির বিষয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূল ধারার গণমাধ্যম একুশে টিভি এর ইউটিউব চ্যানেলে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি ভিডিওর ফুটেজের সাথে আলোচিত ভিডিওর সকল উপাদানের মিল রয়েছে।

ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সে সময় ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে একটি ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও এটি। ভিডিওতে মিজানুর রহমানকে আলোচিত দাবি সংক্রান্ত কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। তাছাড়া, প্রায় নয় মাস পূর্বের এই ভিডিওর সাথে ১৩ নভেম্বরের লকডাউন ইস্যুর সম্পর্ক থাকার কথাও নয়।

ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করেও এর পারিপার্শ্বিক উপাদানে খানিকটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে পরিলক্ষিত হয়।

ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় নির্মিত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘ডিপফেক-ও-মিটার’ এর ‘AVSRDD (2025)’ মডেলের মাধ্যমে ভিডিওটি পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। মডেলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯৭ শতাংশ।

সুতরাং, ডিপফেক প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা লকডাউন কর্মসূচী ঘিরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের দৃশ্য দাবিতে দুইটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: