দীর্ঘ ১৫ বছর পর এবারের নির্বাচনে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ভোট প্রদানের দাবিটি মিথ্যা 

দীর্ঘ ১৫ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভোট প্রদান করেছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওটিতে সাবেক এই রাষ্ট্রপতিকে বলতে শোনা যায়, ‘১৫ বছর পরে ভোট দিলাম। অনেকদিন দিতে পারি নাই; এটা একটা আফসোস ছিল যে, মরবার আগে আর দিতে পারি কিনা।’ 

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ইউটিউবে প্রচারিত একই ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দীর্ঘ ১৫ বছর পর ভোট প্রদান বিষয়ক এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান পরবর্তী মিডিয়াকে দেওয়া তার বক্তব্যকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। 

আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম নাগরিক টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি একই ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়। অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওটি এবারের নির্বাচনের নয়, বরং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কার।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানে জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘ ১৫ বছর পর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট প্রদান করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সর্বশেষ ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছিলেন তিনি।

মূলত, ২০১৩ সালে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। পরে ২০১৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ২১তম রাষ্ট্রপতির শপথ নেন। এই দুই মেয়াদে দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভোট দিতে পারেননি।

সুতরাং, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘ ১৫ বছর পর ভোট প্রদানের পর দেওয়া বক্তব্যকে সাম্প্রতিক দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: