সম্প্রতি, ‘নরসিংদীতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের ভিতরে মাকে ধর্ষণের পরে ছোট বাচ্চাকে হত্যা। মেয়েটি স্বজনদের সাথে ঈদ করতে বাড়িতে আসতেছিল। স্বামী এসে স্ত্রী সন্তানের লাশ কাঁধে করে নিয়ে গেলো’ দাবিতে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।
ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওতে থাকা মা ও ছেলের মৃত্যুর সঙ্গে কোনো ধর্ষণের ঘটনার সম্পর্ক নেই বরং, গত ২৭ মে নরসিংদী রেলস্টেশনে আন্তনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় দুই বছর বয়সী ছেলেসহ এক নারী নিহত হয়েছেন। সেই ঘটনার দৃশ্য এটি।
অনুসন্ধানে সোহেল সাজ্জাদ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২৭ মে প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

পোস্টে সোহেল সাজ্জাদ দাবি করেন, নরসিংদী স্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে একটি বাচ্চা ও একজন মহিলা মারা গেছেন।
একই ভিডিও ইলেকট্রনিক টেলিভিশন মাছরাঙাও তাদের ফেসবুক পেজ থেকে প্রচার করে। সেখানে বলা হয়েছে, কাঁধে স্ত্রী, বুকে সন্তানের নিহত মরদেহ…
উক্ত সূত্র ধরে অনুসন্ধানে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ২৮ মে “ঈদের কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরছিল পুরো পরিবার, ট্রেনের ধাক্কায় মা-ছেলের মৃত্যু” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৭ মে রাত সাড়ে আটটার দিকে নরসিংদী রেলস্টেশনে আন্তনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ২ নম্বর রেললাইনে দুই বছর বয়সী ছেলেসহ এক নারী নিহত হয়েছেন। সেখানে ওই নারীর স্বামী সুজন মিয়া ও মেয়েও ছিল। নিহত ব্যক্তিরা হলেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কারারচর গ্রামের সুজন মিয়ার স্ত্রী সাথী বেগম (২৭) এবং ছেলে হাছেন মিয়া (২)।
সুজন মিয়া বলেন, ‘চোখের সামনেই আমার অবুঝ শিশুসন্তান আর স্ত্রীকে হারালাম। ডাইরেক্ট ট্রেন আসতে দেখে চিৎকার করছিলাম, আটকানোরও চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুই করতে পারিনি।’
নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মহানগর এক্সপ্রেসের একটি বগির দরজা দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ধাক্কায় মা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
একই তথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছে– কালের কণ্ঠ, ইত্তেফাক, আরটিভি সহ একাধিক গণমাধ্যম।
অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওতে থাকা মা-ছেলের মৃত্যুর সঙ্গে ধর্ষণের কোনো ঘটনার সম্পৃক্ততা নেই।
সুতরাং, ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার ঘটনাকে নরসিংদীতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের ভিতরে মাকে ধর্ষণের পরে ছোট বাচ্চাকে হত্যা করা হয়েছে দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Sohel Sazzad- Facebook Post
- Maasranga News- Facebook Post
Prothom Alo- ঈদের কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরছিল পুরো পরিবার, ট্রেনের ধাক্কায় মা-ছেলের মৃত্যু


