রংপুরে বাদ্যযন্ত্রের দোকানে দুর্ঘটনাজনিত আগুনকে উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক আক্রমণ হিসেবে প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি প্রচার করা হয়েছে, রংপুরে তাল তরঙ্গ নামের একজন হিন্দু ব্যবসায়ীর বাদ্যযন্ত্রের দোকান ধর্মীয় কারণে পুড়ে ছাই করে দিয়েছে উগ্র ইসলামপন্থীরা।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে এক্সে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, রংপুরে তাল তরঙ্গ নামের একজন হিন্দু ব্যবসায়ীর বাদ্যযন্ত্রের দোকানে ধর্মীয় কারণে উগ্র ইসলামপন্থীরা আগুন দিয়েছে শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, অগ্নিকাণ্ডটি দুর্ঘটনাজনিত এবং এর উৎপত্তি শর্ট সার্কিট; এতে সাম্প্রদায়িক আক্রমণের কোনো বিষয় নেই।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে রিউমর স্ক্যানার এর একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। জানা যায়, সম্প্রতি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ি বাজারে ওভারব্রিজ সংলগ্ন তিনটি দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডে তিনটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এরমধ্যে দুইটি দোকানের মালিক মুসলিম, এবং ‘নিউ তাল তরঙ্গ ভুবন’ নামের ক্ষতিগ্রস্ত বাদ্যযন্ত্রের দোকানের মালিক হিন্দু।

নিউ তাল তরঙ্গ দোকানের মালিক বলরাম মনি দাস জানান, “আগুনে তিনটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুইটার মালিক মুসলিম আরেকটা আমাদের। আমি কাজ শেষ করে ১২টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাই। ফজরের দিকে আগুন লেগেছে শুনি, আগুন নেভানোর শেষ পর্যায়ে দোকানে এসে দেখি এইরকম অবস্থা।” শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে এমন ধারণার কথা জানান তিনি।

সাম্প্রদায়িক কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলরাম মনি দাস বলেন, “না, এইরকম কোনোকিছু নেই, আমি এখানে ‘৯১ সাল থেকে আছি। এখানের মুসলমানেরা আমাকে অনেক ভালোবাসে, এই যে আশেপাশের লোকজনের বাড়ি যাই যখন-তখন, কেউ কখনো আমাকে বলে না আসা যাবে না, এইরকম কোনোকিছু নাই। সবাই আমাকে অনেক ভালোবাসে।”

ক্ষতিগ্রস্ত ‘মায়ের দোয়া’ হোটেলের মালিকের কাছে কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আসলে ওই সময় ওখানে ছিলাম না, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে বলেছে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে।” এই ঘটনার পেছনে সাম্প্রদায়িক কারণ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, এইরকম কিছু নেই, আর ওই দাদার একার তো আগুন লাগে নাই, সাথে আমাদেরও লাগছে। এইরকম কোনোকিছু নাই।”

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার ফারুক হোসেন বাবুর কাছে কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এইটা শর্ট সার্কিট থেকে লাগছে, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিভিয়েছে।”

পাশাপাশি, একজন স্থানীয় ব্যক্তির সাথে কথা বললে তিনিও ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক নয় বলে জানান। এছাড়াও, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও আলোচিত ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক হওয়ার সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটিতে সাম্প্রদায়িক কোনো কারণ নেই।

উল্লেখ্য, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত কিছু পোস্টে একটি বাদ্যযন্ত্রের দোকানের ছবিও সংযুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে। তবে ছবিটি পর্যবেক্ষণে দোকানের জিনিসপত্র ও মানুষের অঙ্গভঙ্গিতে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায় এবং একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।

সুতরাং, রংপুরে বাদ্যযন্ত্রের দোকানে দুর্ঘটনাজনিত আগুনকে উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক আক্রমণ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

  • Statement of Shopkeepers
  • Rumor Scanner’s analysis 
  • AI Analysis
Share: