অভিনেত্রী শাওনের জুলাই বিরোধী পোস্ট ঘিরে ইন্টারনেটে যত অপতথ্য 

২০২৪ সালের জুলাইতে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরবর্তীতে সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার সেই অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলনের দুই বছর পূর্তি সামনে রেখে চলতি জুলাইয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনলাইনে ক্যাম্পেইন চলছে। এরই মধ্যে গত ১ জুলাই অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন জুলাই আন্দোলনকে কটাক্ষ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।

পোস্টে তিনি লিখেন, “গত ১ বছরে প্রায়-ই ফেসবুকে একটা শব্দ চোখে পড়েছে-জুলাই CDI… আমার পরিচিত অনেকের লেখাতেই #জুলাইCDI শব্দটা দেখেছি। আবার অপরিচিত অনেকেও লিখেছে #জুলাইCDI. প্রথম প্রথম ভেবেছিলাম #জুলাইCDI কোনো একটা ট্রেন্ড। শুধুমাত্র জুলাই মাসেই হয়তো তারা #জুলাইCDI লেখে; কিন্তু একটু খেয়াল করে দেখলাম সারাবছরই ফেসবুকে বেশিরভাগ মানুষ লিখছে #জুলাইCDI!! তখন বুঝতে পারলাম যে #জুলাইCDI শুধু জুলাই মাসে না, যেকোনো সময় #জুলাইCDI লেখা যায়। মন খারাপ থাকলে যেমন আস্তে করে লেখা যায় #জুলাইCDI তেমনি মন খুব ভালো থাকলেও হো হো করে হাসতে হাসতে #জুলাইCDI লেখা যায়। বন্ধুর সঙ্গে আড্ডার গল্পে যেমন লেখা যায় #জুলাইCDI তেমনি কারো ওপর ভীষণ রেগে গেলেও #জুলাইCDI লেখা যায়। আবার মনের অবস্থা ভালো না মন্দ আপনি বুঝতে পারছেন না, তখনও আপনি #জুলাইCDI লিখতে পারেন। আমার বাবা এতোকিছু ভেবে কাজ নেই। আজ যেহেতু পয়লা জুলাই, তাই আমিও লিখলাম #জুলাইCDI… ছবি কৃতজ্ঞতাঃ চ্যাটজিপিটি ভাইয়া।”

মেহের আফরোজ শাওনের এই পোস্টের পরই সরগরম হয়ে উঠে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। অনলাইন ও অফলাইনে জুলাইপন্থীদের (২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সমর্থনকারী) ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। সমালোচনার জবাবে পরদিন ২ জুলাই ফেসবুকে আরেকটি পোস্ট দেন এই অভিনেত্রী। এই পোস্টে তিনি বলেন, “৭৮ বছর বয়স্ক মহিলার অন্তর্বাস উঁচিয়ে দাঁত কেলিয়ে উল্লাস করা কিংবা দেয়ালে গ্রাফিতির নামে সরাসরি হাসিনা *দি লেখা দেখে যাদের মুচকি হাসি পেয়েছিল, আজকে একটি ইংরেজি মাস CDI লেখাতে তাদের শালীনতায় খুব লাগছে! আহারে ভন্ড সুশীলগুলো…”

অতীতের বিভিন্ন ইস্যুর ন্যায় এই ঘটনা ঘিরেও ইন্টারনেটে বেশ কয়েকটি অপতথ্য ছড়াতে লক্ষ্য করেছে রিউমর স্ক্যানার।

১ জুলাই মেহের আফরোজ শাওনকে জড়িয়ে কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে প্রচার হতে দেখা যায়। ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, “গু খেতে বলায় আজও হুমায়ূনের প্রতি রাগ পুষে রেখেছেন শাওন, বললেন, “কোনো কিছু খেতে গেলেই এই কথা মনে পড়ে যায় আমার””। ফটোকার্ডটিতে উল্লেখ থাকা থাকা তারিখের সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে এমন কোনো ফটোকার্ড কিংবা অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে শাওনের এমন মন্তব্য করার প্রমাণ মেলেনি।

৩ জুলাই শাওনকে আটক করা হয়েছে বলে একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাকে গ্রেফতারের প্রমাণ হিসেবে একটি ছবিও প্রচার হতে দেখা যায়। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি সম্পাদিত। মূলত ২০২৫ সালের ০৯ মে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেফতারের সময়কার একটি ছবিকে সম্পাদনা করে এই ছবিটি তৈরি করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনকে কটাক্ষ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্য ও অপপ্রচারের অভিযোগে ০৪ জুলাই অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও তাকে আটক কিংবা গ্রেফতারের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

৪ জুলাই ইউটিউবে কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত আরেকটি ফটোকার্ড প্রচার হতে দেখা যায়। ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, “দৌলতদিয়ার শাওন এখন ঢাকায় প্রতি শটে নিচ্ছেন ৩৬ ফুল নাইট ২০২৪ টাকা”।

উক্ত ফটোকার্ডের তারিখ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেল স্ক্রল করে এর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ কালের কণ্ঠ এমন কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি।

একইদিনে Daily Times Bangladesh নামের একটি সংবাদভিত্তিক ফেসবুক থেকে একটি ফটোকার্ড প্রচার করে দাবি করা হয়, মেহের আফরোজ শাওনের পুত্র নিষাদ হুমায়ুন বলেছেন- “আমার মায়ের মানসিক অবস্থা ভালো নেই, তার ব্যাবহারে আমি লজ্জিত”।

তবে এই পোস্টের ক্যাপশনে কিংবা ফটোকার্ডে মন্তব্যের সপক্ষে কোনো সূত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। নিষাদ হুমায়ুনের ইন্সটাগ্রামফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করে এমন কোনো মন্তব্যের অস্তিত্ব মেলেনি। এছাড়া, কোনো গণমাধ্যমেও তার এমন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাওনের পোস্টের পক্ষে পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান জানানো ব্যক্তিদের জড়িয়েও অপপ্রচার

মেহের আফরোজ শাওনের জুলাই আন্দোলন কটাক্ষ করে দেওয়া পোস্টের জবাবে উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী শাওনের পোস্টের স্ক্রিনশট যুক্ত করে ১ জুলাই তার (দীপ্তি) ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি বলেন, “কাউকে ডিরেক্ট অ‍্যাটাক করে পোস্ট দেয়া আমার স্বভাবে নেই। কালচারাল লিবারেল ফ‍্যামিলিতে বড় হওয়ায় সংস্কৃতি কর্মীদের প্রতি সামান্য দুর্বলতা আছে। এই পোস্টটা আমি রেখে দিলাম যেন মনে থাকে যে- শিল্পীও অমানুষ, রুচিহীন, বিকৃত মস্তিষ্কের, বর্বর, বিবেকহীন হয়।”

দীপ্তি চৌধুরীর এই পোস্টের পর তাকে জড়িয়ে একাধিক অপতথ্য প্রচার করা হয়।

২ জুলাই দীপ্তি চৌধুরীর মুখাবয়ব যুক্ত কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়। ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, “বিয়ের এক মাসের মাথায় তিন মাসের গর্ভধারণের দাবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা।” তবে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে এমন কোনো ফটোকার্ড কিংবা অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

যাচাইয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, প্রচারিত ফটোকার্ডটি ওপেন এআই এর AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ওপেন এআই এর নিজস্ব যাচাই ব্যবস্থায় এটি ওপেন এআই-নির্মিত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফটোকার্ডের মাধ্যমে দীপ্তি চৌধুরীকে উদ্ধৃত করে একটি মন্তব্যও ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়, দীপ্তি বলেছেন- “অনলাইনে সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা জুলাই CDI বলে উল্লাস করছে, জুলাইকে নিয়ে হাসাহাসি করছে, তাদের সবাইকে খুঁজে বের করে জুলাই হত্যা মামলা দেওয়া উচিত সরকারের।” তবে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টপেজ পর্যবেক্ষণ করে এমন কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রেও তার এমন মন্তব্য দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘দৈনিক মোল্লার দেশ’ নামক একটি সার্কাজম পেজ থেকে এই ফটোকার্ডটি প্রথম প্রচার করা হয়, যা পরবর্তীতে দীপ্তির আসল মন্তব্য দাবিতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।

৩ জুলাই অভিনেত্রী মাহিয়া মাহির ছবি যুক্ত কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়। ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, মাহি বলেছেন- ““শুধু শাওন রে CDলে** হবে, আমারেও CDতোন***!”—”

তবে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে এমন কোনো ফটোকার্ড কিংবা অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মাহির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে মেহের আফরোজ শাওনের পোস্টকে সমর্থন করে দেওয়া একাধিক পোস্ট পাওয়া গেলেও আলোচিত মন্তব্য সংবলিত কোনো পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গুগলের এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট জেমিনির তথ্য অনুযায়ী আলোচিত ছবিটির কিছু অংশ গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদনা বা তৈরি করা হয়েছে।

শাওনের বিরুদ্ধে মবের হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে আলোচনায় আসেন মডেল ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল। এরই প্রেক্ষিতে তার ছবিযুক্ত কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার হতে দেখা যায়। দাবি করা হয়, পিয়া বলেছেন- “ব্যারিস্টার সুমন স্যার একাকীত্বের এই পথটা একাই পাড়ি দিচ্ছেন। যদি কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী এসে তাঁর এই একাকীত্বের শূন্যতাটা কিছুটা হলেও পূরণ করে CDE দিত, তাহলে হয়তো ভালো লাগত।”

তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কালের কণ্ঠ বা পিয়ার কোনো অফিসিয়াল মাধ্যমে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং গুগলের এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট জেমিনির তথ্য অনুযায়ী ছবিটির একাংশ গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাসের ছবিযুক্ত একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দৈনিক কালের কণ্ঠের ডিজাইন ব্যবহার করে দাবি করা হয়েছে, অরুণা বলেছেন – “শাওন ও মাহিকে সবাই CDLN তাহলে আমাকে বাকি রাখলেন কেনো আমাকেও CDN”

তবে কালের কণ্ঠ কিংবা অরুণার কোনো মাধ্যমেই এ সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা মেলেনি, বরং গুগলের এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট জেমিনির তথ্যানুযায়ী ছবিটির একাংশ গুগলের এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি বলে জানা গেছে।

উপস্থাপক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষারকে জড়িয়েও একটি অপতথ্য প্রচার হতে দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, তুষার বলেছেন- “আফসোস এক শাওনের একটা পোস্টে আপনারা যতটা সরব, তার বিন্দুমাত্র যদি হামে নিহত ৭০০+ বাচ্চার জন্য হতেন, আমেরিকার সাথে গোলামীর চুক্তি নিয়ে যদি বলতেন! আপনাদের আসলে কি বলে সংজ্ঞায়িত করা উচিত?”

তবে, আব্দুন নূর তুষারের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এমন কোনো মন্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বিশ্বস্ত কোনো সংবাদমাধ্যম বা সংশ্লিষ্ট সূত্রেও মন্তব্যটির বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তথ্য যাচাইয়ে দেখা যায়, ‘Bengali Steam’ নামের একটি সার্কাজম পেজে প্রথম ফটোকার্ডটি প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তৈরি এই ফটোকার্ডটি তুষারের সত্যিকারের মন্তব্য হিসেবে প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়।

অপপ্রচার থেকে বাদ যাননি রাজনীতিবিদরাও

৩ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিকে উদ্ধৃত করে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়, রনি বলেছেন- “July cdi খুব অশালীন শব্দ কিন্তু শা*উ*য়া মা*উয়া ছিঁড়ে ফেল এটা খুব শালীন এবং শ্রুতিমধুর শব্দ!”

তবে অনুসন্ধানে রনির এমন মন্তব্য করার প্রমাণ মেলেনি। বরং, এক ফেসবুক পোস্টে আলোচিত ফটোকার্ডটি যুক্ত করে এই মন্তব্য তিনি করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘Gupto Television’ নামের একটি সার্কাজম পেজ থেকে ফটোকার্ডটি প্রথম প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ব্যঙ্গাত্মক উদ্দেশ্যে তৈরি এই ফটোকার্ডটি আবিদুলের আসল মন্তব্য হিসেবে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খানকে উদ্ধৃত করেও একটি ফটোকার্ড প্রচার হতে দেখা যায়। দাবি করা হয়, আবিদুল বলেছেন- “মেহের আফরোজ শাওন যেদিন জুলাই CDI বললো, সেদিন সারারাত কেঁদেছি, একটুও ঘুমাতে পারিনি।”

তবে আবিদুল ইসলাম খানের ফেসবুক আইডি পর্যবেক্ষণ করে এমন কোনো মন্তব্যের প্রমাণ মেলেনি। এছাড়া কোনো গণমাধ্যম কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রেও তার এমন কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘দৈনিক মোল্লার দেশ’ নামের একটি সার্কাজম পেজ থেকে ফটোকার্ডটি প্রথম প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ব্যঙ্গাত্মক উদ্দেশ্যে তৈরি এই ফটোকার্ডটি আবিদুলের আসল মন্তব্য হিসেবে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মূলত, গত ৪ জুলাই স্যাটেলাইটভিত্তিক টিভি চ্যানেল দেশ টিভির এক টকশোতে আবিদুল বলেছেন- “জুলাইকে যারা কটাক্ষ করতে চাইবে, অস্বীকার করতে চাইবে কিংবা বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করে জুলাইকে অবহেলিত করতে চাইবে, তাদের জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলতে হবে।” তার এই মন্তব্যের পরই আলোচিত ভুয়া মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়।

অপপ্রচারের শিকার হওয়ার পাশাপাশি গোলাম মাওলা রনিকে তার ইউটিউব চ্যানেল থেকে একটি ভুল তথ্য প্রচার করতে দেখা গেছে।

৪ জুলাই তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণাত্মক ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, “মেহের আফরোজ শাওন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বশেষ পার্লামেন্টে তিনি নারী কোটায় সংসদ সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন।”

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোলাম মাওলা রনির এই দাবি সত্য নয়। অভিনেত্রী শাওন দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও সেসময় তাকে দলটির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিকে সামনে রেখে মেহের আফরোজ শাওনের বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি অপতথ্যেরও বিস্তার ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাওন, তার পরিবারের সদস্য, সমালোচক, সমর্থক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জড়িয়ে একাধিক ভুয়া ফটোকার্ড, সম্পাদিত ছবি, এআই-নির্মিত কনটেন্ট ও সার্কাজম পেজের পোস্টকে বাস্তব দাবি হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব দাবির কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই; অধিকাংশই ভুয়া ফটোকার্ড, সম্পাদিত বা এআই-সৃষ্ট ছবি, কিংবা ব্যঙ্গাত্মক পোস্টকে প্রসঙ্গচ্যুতভাবে সত্য হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, একটি বিতর্কিত সামাজিক-রাজনৈতিক ইস্যুকে ঘিরে মতবিরোধের পাশাপাশি পরিকল্পিত বা বিভ্রান্তিকর অপতথ্যও সমানতালে ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

Share: