লটারিতে নয়, একাদশে ভর্তি মাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তিতে

সম্প্রতি ‘চলতি বছরের একাদশে ভর্তি কার্যক্রম লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে’ শীর্ষক দাবিতে একটি তথ্য গণমাধ্যম সহ সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখুন প্রথম আলো, দৈনিক বাংলা, কালবেলা, চ্যানেল২৪, রাইজিং বিডি, দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস, সারা বাংলা, নিউজজি২৪, বাংলাদেশ জার্নাল, রিদ্মিক নিউজ, নিউজ নাউ২৪, শিক্ষা বার্তা, বিজনেস আওয়ার২৪, সময়ের খবর, ঢাকা টুডে, বাংলা খবর, ডেল্টা টাইমস, সুরমা মেইল

গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজ সহ অন্যান্য পেজে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন পোস্ট (আর্কাইভ), পোস্ট (আর্কাইভ), পোস্ট (আর্কাইভ), পোস্ট (আর্কাইভ), পোস্ট (আর্কাইভ), পোস্ট (আর্কাইভ), পোস্ট (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, চলতি বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি লটারি পদ্ধতিতে নয় বরং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিকের ফলের ভিত্তিতেই ভর্তি করানো হবে জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সম্প্রতি নীতিমালা প্রকাশ করেছে।

দাবিটি নিয়ে অনুসন্ধানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে গত ৬ আগস্ট ‘২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা-২০২৩’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত চলতি বছরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালাটি খুঁজে পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে নীতিমালাটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নীতিমালাটির ‘প্রার্থী নির্বাচনে অনুসরণীয় পদ্ধতি’ শীর্ষক তৃতীয় ধারার ৩.১ উপধারায় বলা হয়েছে, ভর্তির জন্য কোন বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। কেবল শিক্ষার্থীর এস.এস.সি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করানো হবে।

একইভাবে ৩.২ উপধারায় বলা হয়, কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ৯৩% আসন সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। একই ধারায় কোটার ক্ষেত্রেও বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নূন্যতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে ২% কোটা সংরক্ষিত থাকবে। যদি আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হয় সেক্ষেত্রে তাদের নিজেদের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। বাকি ৫% আসন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/সন্তানের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। উপর্যুক্ত কোটায় যদি প্রার্থী না পাওয়া যায় তবে এ আসন কার্যকরী থাকবে না।

নীতিমালাটির ৩.৩ উপধারাটি বিশ্লেষণ করেও দেখা যায়, সেখানে সমান জিপিএ প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এসবের বাইরে পুরো নীতিমালাটি বিশ্লেষণ করেও লটারির মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বিষয়ে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে অধিকতর নিশ্চয়তার জন্য রিউমর স্ক্যানার টিম নীতিমালাটির সূত্রে পাওয়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারি সচিব (সরকারি কলেজ-১) রেবেকা সুলতানার সাথে যোগাযোগ করলে তিনিও সম্প্রতি প্রকাশিত নীতিমালাটি অনুসরন করার পরামর্শ দেন।

পাশাপাশি এই বিষয়ে জানতে রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের উপাধ্যক্ষ গোলাম ফারুকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যেই নীতিমালা মাউশি থেকে দেওয়া হয়েছে সেটাই প্রকৃত তথ্য। কারণ উচ্চ মাধ্যমিকে তো লটারি দিয়ে ভর্তি হয় না বরং এখানে মাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তিতেই ভর্তি করানো হয়।

উল্লেখ্য, গণমাধ্যমে একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, ‘এবারও একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়া লটারিতে।’ অর্থাৎ পূর্বেও লটারির মাধ্যমে একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

এ নিয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালেও লটারির মাধ্যমে একাদশে ভর্তি করানো হবে দাবিতে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। এমন কিছু প্রতিবেদন দেখুন ডেইলি ক্যাম্পাস, ইত্তেফাক, সাম্প্রতিক দেশকাল

তবে সে বছরের একাদশে ভর্তি সংক্রান্ত নীতিমালা বিশ্লেষণ করেও এমন কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মূলত, গত ৬ আগস্ট একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বিস্তারিত তথ্য সংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। পরবর্তীতে দেশীয় কতিপয় গণমাধ্যমে এই নীতিমালার বরাতেই দাবি করা হয় যে, এ বছর লটারির মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে। তবে অনুসন্ধানে নীতিমালাটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই নীতিমালার কোথাও লটারির বিষয়টি উল্লেখ নেই। বরং এই নীতিমালা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে তার এস.এস.সি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করানো হবে।

সুতরাং, চলতি বছরের একাদশে ভর্তি কার্যক্রম লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে দাবিতে গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: