বাংলাদেশি নারী পর্যটককে ধর্ষণ দাবিতে এআই-নির্মিত ভুয়া খবর ভাইরাল

প্রায় দুই বছর পর ভারত গত ২৮ জুন বাংলাদেশিদের ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন গ্রহণ করা শুরু করেছে। এরই প্রেক্ষিতে, সম্প্রতি “বাংলাদেশী পর্যটককে কলকাতায় হোটেলে ধর্ষন করা হয়েছে।” শীর্ষক একটি দাবি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফেসবুকে এমন দাবির কিছু পোস্টে দাবির পক্ষে বলা হচ্ছে, ​ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি নারী পর্যটক। কলকাতার নিউ মার্কেটের একটি হোটেলে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।

ফেসবুক এ সংক্রান্ত দাবির পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

অনলাইন একটি নিউজ পোর্টালেও দাবিটি প্রচার করা হয়েছে। দেখুন সবার দেশ

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি বাংলাদেশি পর্যটককে হোটেলে ধর্ষণের কোনো ঘটনা কলকাতায় ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে, এআই দিয়ে সংবাদ বানিয়ে ভুয়া এই দাবিটি প্রচার করা হয়েছে৷

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে কিওয়ার্ড সার্চ করে ভারতের কলকাতাভিত্তিক এবং বাংলাদেশের মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ মেলেনি। দাবিটির সূত্রপাত ফেসবুকেই। ফেসবুকের এডভান্স সার্চ টুলের সহায়তায় দেখা যায়, অন্তত ০২ জুলাই থেকে দাবিটি প্রচার হচ্ছিল। ‘Qamrul MB’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে দাবিটি কোনো সূত্র বা বিস্তারিত তথ্য ছাড়াই প্রচার হয় সেদিন। একইদিন ‘Shohan Shohan Ali’ নামের আরেকটি প্রোফাইলে দাবিটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ পাওয়া যায়। কমেন্টে একটি সংবাদের আদলে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, কথিত সংবাদটিতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা এআই-লিখিত বা এআই এর সহায়তায় সম্পাদিত লেখায় প্রায়ই দেখা যায়। যেমন, একই ধরনের আনুষ্ঠানিক ভাষা বারবার ব্যবহার হয়েছে (যেমন, ‘ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে’, ‘প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে’)। ‘ঘটনার বিবরণ’, ‘আইনি পদক্ষেপ’, ‘বর্তমান পরিস্থিতি’—এভাবে শিরোনামভিত্তিক কাঠামো অনেক এআই-তৈরি সংবাদসদৃশ লেখায় দেখা যায়। লেখাটির অনেক বক্তব্য সাধারণীকৃত। যেমন, ‘স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে’ বা ‘দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা’—এসব দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা বা উদ্ধৃতি নেই। লেখাটিতে কোনো প্রত্যক্ষ উদ্ধৃতি, কর্মকর্তার বক্তব্য, মামলা নম্বর বা নির্দিষ্ট সূত্র উল্লেখ করা হয়নি, যা সাধারণত পেশাদার সংবাদ প্রতিবেদনে থাকে।

দাবিটির বিষয়ে জানতে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার সাংবাদিক সৌরভ পাল এবং আজতক বাংলার ফ্যাক্টচেকার ঋদ্ধীশ দত্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা রিউমর স্ক্যানারকে জানান, কলকাতায় সম্প্রতি এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সুতরাং, বাংলাদেশি পর্যটককে কলকাতায় হোটেলে ধর্ষণ শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

  • Statement 
  • AI Analysis
Share: