ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। এ সময় কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এএন/এফপিএস-১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কীকরণ রাডার একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে, ক্ষতিগ্রস্ত ওই রাডারের দৃশ্য বলে দাবি করে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ছবিটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি ভুয়া ছবি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কাতারসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রাডারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হয়। তবে কোথাও আলোচিত ছবিটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ছবিটি বিশ্লেষণ করেও এআই-তৈরি কনটেন্টে দেখা যাওয়া কিছু সাধারণ অসংগতি শনাক্ত করা গেছে।
বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে রিউমর স্ক্যানার ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশন দিয়ে পরীক্ষা করে। টুলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্রকাশিত ওই রাডারের নকশার সঙ্গে আলোচিত ছবিটির তুলনা করলেও অমিল দেখা যায়। পাশাপাশি, হামলার পর কাতারের আল-উদেইদ এয়ার বেসের দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গেও আলোচিত ছবিটির কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ইরানের হামলার পর আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের ১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাডারের দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।
তথ্যসূত্র
- HIVE MODERATION
- Rumor Scanner’s Analysis


