এপস্টিন ফাইলসে ট্রাম্প এবং ক্লিনটনের একই বিছানায় শুয়ে থাকার ছবি পাওয়া গেছে দাবিতে এআই ছবি প্রচার

জেফরি এপস্টিন ছিলেন একজন ধনী আমেরিকান বিনিয়োগকারী এবং দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে গড়ে তোলা উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি কিশোরী মেয়েদের যৌন নির্যাতন ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল যৌন পাচারের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এপস্টিনের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক এবং নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্ম হয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, এপস্টিন আত্মহত্যা করেছেন।
২০২৬ সালে ‘এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠার নথি, দুই হাজারেরও বেশি ভিডিও এবং প্রায় এক লাখ আশি হাজার ছবি প্রকাশ করে। এপস্টিন সংক্রান্ত এই বিপুল পরিমাণ তথ্য উপাত্তের সমষ্টিকেই সাধারণভাবে ‘এপস্টিন ফাইলস’ নামে অভিহিত করা হয়।
এর প্রেক্ষিতে, এপস্টিন ফাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের একই বিছানায় শুয়ে থাকার একটি ছবির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি প্রচার করা হয়। প্রচারিত ছবিটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিল ক্লিনটনকে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত এপস্টিন ফাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের একই বিছানায় শুয়ে থাকার ছবির সন্ধান পাওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এপস্টিন ফাইলে এমন কোনো ছবির সন্ধান পাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে Capes নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একই ছবিটির একটি স্পষ্ট এবং দীর্ঘ সংস্করণ প্রচারিত হতে দেখা যায়। প্রাপ্ত ছবিটি পর্যালোচনা করে এতে এআই জনিত অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। ছবিটিতে বিছানায় কমফোর্টারের ওপর দিয়ে ট্রাম্পের পায়ের অবয়ব বোঝা গেছে ও বিল ক্লিনটনের সাইডে অস্বাভাবিকভাবে সমান দেখা যায়।

তাই প্রচারিত ছবিটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি কি না তা যাচাই করতে রিউমর স্ক্যানার গুগলের বিশেষ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ‘SynthID’ ব্যবহার করে। গুগলের এই প্রযুক্তি এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও বা অডিওতে অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও গুগলের নিজস্ব টুলের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। ছবিটি সিন্থআইডি দিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি গুগলের এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি।
পাশাপাশি এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী আরেক প্ল্যাটফর্ম Hive Detect-এ ছবিটি পরীক্ষা করলেও ছবিটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে জানা যায়।
সুতরাং, এপস্টিন ফাইলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিল ক্লিনটনের একই বিছানায় শুয়ে থাকার ছবির সন্ধান পাওয়ার দাবিটি মিথ্যা এবং উক্ত দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই জেনারেটেড।
তথ্যসূত্র
- SynthID
- Hive Detect
- Rumor Scanner’s Analysis

