সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি মেট্রোরেল লাইনের ওপর থেকে নিচের সড়কে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা, ‘মিরপুর 13 তে কি হলো।’ পাশাপাশি ভিডিওতে প্রদর্শিত মেট্রো স্টেশনে বাংলায় ‘মিরপুর ১৩’ লেখা দেখা যায়।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম বা বিশ্বস্ত সূত্রে এমন কোনো ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে বেশ কিছু অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে যেমন, স্টেশনের বাংলা নামফলকে বিকৃত অক্ষর, বাংলায় ‘মিরপুর ১৩’ আর ইংরেজিতে ‘Mirpur 10’ লেখা, মানুষের চলাচলের অস্বাভাবিক গতি এবং বিলবোর্ডের অসংলগ্ন লেখা। এসব লক্ষণ সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কনটেন্টে দেখা যায়। এছাড়া, বাস্তবে মিরপুর ১৩ এলাকায় কোনো মেট্রো স্টেশন নেই।

পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশনে বিশ্লেষণ করা হলে, এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ বলে ফলাফল আসে।

এছাড়া, গুগলের জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল জেমিনির তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটির কিছু অংশ গুগল এআই ব্যবহার করে তৈরি বা এডিট করা হয়েছে। গুগল তাদের এআই টুল দিয়ে তৈরি কনটেন্টে সিন্থআইডি (SynthID) নামের একটি ডিজিটাল জলছাপ যুক্ত করে, যার মাধ্যমে পরবর্তীতে এমন কনটেন্ট শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
সুতরাং, ‘মিরপুর ১৩’ মেট্রো স্টেশন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।
তথ্যসূত্র
- Hive Moderation: Hive Detect AI
- SynthID
- Rumor Scanner’s Analysis


