ইরানের মিসাইলের আঘাতে আমেরিকার ফাইটার জেট ধ্বংস হওয়ার দাবিতে এআই ছবি প্রচার 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এ ঘটনার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এরই প্রেক্ষিতে, ইরানের মিসাইলের আঘাতে আমেরিকার ফাইটার জেট ধ্বংস হওয়ার দাবিতে একটি ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।  

ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ইরানের মিসাইলের আঘাতে আমেরিকার ফাইটার জেট ধ্বংস হওয়ার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি বাস্তব নয় বরং, ভিন্ন ঘটনার পুরোনো একটি ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে সম্পাদনা করে আলোচিত ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে স্কেল মডেলিং ওয়েবসাইট এয়ারক্রাফট রিসোর্স সেন্টার (এআরসি এয়ার) এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি ছবি পাওয়া যায়। উক্ত ছবির সাথে আলোচিত ছবির অনেকাংশে মিল রয়েছে। শুধু আলোচিত ছবিতে একাধিক সামরিক সদস্যের উপস্থিতি থাকলেও মূল ছবিতে তা নেই।

মূল ছবিটির ক্যাপশনে লিখা রয়েছে, বিমানের নাকের (সামনের) অংশটি আলাদা হয়ে যায় এবং WSO (Weapons Systems Officer) রানওয়ের বাইরে মাটিতে আছড়ে পড়েন। এতে তার (WSO) একটি হাত ভেঙে যায় এবং অন্য হাতটি কাঁধের কাছ থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে, পরবর্তীতে WSO সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং আবারও উড্ডয়ন কার্যক্রমে ফিরে যান। পাইলটের কেবল সামান্য আঘাত লেগেছিল। বিমানটি সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যবহারের অযোগ্য (write-off) ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে আলোচিত ছবিটি একাধিক এআই ডিটেক্টর দিয়ে যাচাই করে দেখা যায়, আলোচিত ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

অর্থাৎ, এই ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে আলোচিত ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী ইরানে হামলার সময় আমেরিকার তিনটি বিমান কুয়েতে ভূপাতিত হওয়ার কথা জানিয়েছে আমেরিকা।

সুতরাং, ইরানের মিসাইলের আঘাতে আমেরিকার ফাইটার জেট ধ্বংস হওয়ার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় নির্মিত।

তথ্যসূত্র

Share: