সম্প্রতি, ‘কুয়েট ক্যাম্পাসে জুলাই চত্বরে হাদীর গ্রাফিতি-তে কারা জানি চুন মেরে দিয়েছে!’ এমন দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, কুয়েটে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির গ্রাফিতিতে চুন মেরে মুছে ফেলার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া এই ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের গত ২৪ ডিসেম্বর অনলাইন এক্টিভিস্ট পিনাকি ভট্টাচার্যের ফেসবুক পেজে ‘কুয়েট ক্যাম্পাসে শহীদ হাদি’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটির মিল থাকলেও সেখানে চুন মাখানোর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। একই ফ্রেমের হওয়ায় এই ছবিটি থেকেই আলোচিত ছবিটি সম্পাদিত হতে পারে বলে ধারণা করা যায়।

বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে, গুগলের এআই জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি (SynthID) মাধ্যমে ছবিটি পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। গুগলের সিন্থআইডি (SynthID) প্রযুক্তি এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও, অডিও বা টেক্সটে অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত করে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। গুগলের দাবি, কনটেন্ট তৈরি হওয়ার মুহূর্তেই এই ওয়াটারমার্ক যুক্ত হয় এবং ক্রপ করা, ফিল্টার প্রয়োগ বা ফ্রেম রেট পরিবর্তনের মতো সম্পাদনার পরও এটি টিকে থাকে। কোনো ছবি গুগল এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কি না জানতে চাইলে জেমিনিতে ছবিটি আপলোড করে জিজ্ঞেস করলেই সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক আছে কি না পরীক্ষা করে জানিয়ে দেয়। আলোচিত ছবিটি জেমিনিতে পরীক্ষা করে জানতে চাইলে জেমিনি জানায়, ছবিটি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত।
এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েটে হাদির গ্রাফিতিতে চুন মাখানোর ঘটনা সম্পর্কে গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়নি৷
সুতরাং, এআই দিয়ে তৈরি ছবিকে কুয়েটে ওসমান হাদির গ্রাফিতিতে চুন মেরে মুছে ফেলার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- SynthID
- Rumor Scanner’s analysis


