সম্প্রতি, এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার বাবাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছেন দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়।

উক্ত দাবিতে ভারতীয় গণমাধ্যমের ফেসবুক পোস্ট দেখুন হেডলাইনস ত্রিপুরা ন্যাশনাল।
একই দাবির পোস্ট দেখুন ফেসবুকে, এক্সে।
উক্ত ছবি ব্যতিত একই দাবির পোস্ট দেখুন এখানে।
একই দাবিতে টকশোর আলোচনা দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সারজিস আলম তার বাবাকে নিয়ে ভারত গেছেন দাবিতে প্রচারিত ছবিটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি ছবিকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে রিভার্স সার্চ এবং কিওয়ার্ড সার্চ করে প্রচারিত ছবিটি বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি। ছবিতে সারজিসের সাথে থাকা ব্যক্তিকে তার বাবা বলে দাবি করা হলেও অনুসন্ধান জানাচ্ছে, ছবির ব্যক্তির সাথে সারজিসের শ্বশুরের চেহারার মিল রয়েছে।
প্রচারিত ছবিটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি কিনা তা জানতে রিউমর স্ক্যানার গুগলের বিশেষ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ‘SynthID’ ব্যবহার করে। গুগলের এই প্রযুক্তি এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও বা অডিওতে অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও গুগলের নিজস্ব টুলের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। সিন্থআইডি দিয়ে বিশ্লেষণ করে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

অন্তত এপ্রিলের শুরু থেকে দাবিটি ব্যাপকভাবে প্রচারের প্রেক্ষিতে সারজিস আলম ফেসবুকে এক পোস্টে জানান, “শুনলাম আমার বাবা নাকি ভারতে চিকিৎসার জন্য গিয়েছে ! ফটোকার্ডে আবার ছবি দিয়েছে আমার শ্বশুরের। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হইলো- আমার আম্মু, শাশুড়ি কিংবা আমরা কেউই এ বিষয়ে কিছু জানি না ! এই হইলো সোশ্যাল মিডিয়ার অবস্থা !”
এনসিপির পক্ষ থেকেও রিউমর স্ক্যানারকে জানানো হয়েছে, তিনি, তার পরিবার বা শ্বশুর বাড়ির কেউই ভারতে যায়নি।
সুতরাং, সারজিস আলম তার বাবাকে নিয়ে ভারত গেছেন দাবিতে প্রচার হওয়া এই ছবিটি এআই জেনারেটেড।
তথ্যসূত্র
- Ai Detection Tool
- Rumor Scanner’s analysis


