ফয়সালের দেওয়া তথ্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা গ্রেফতার দাবিতে এআই-নির্মিত ছবি প্রচার

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের দেওয়া তথ্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা গ্রেফতার দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। আলোচিত ফটোকার্ডে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ডাকসুর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও ফাহিম আবদুল্লাহ ছবি রয়েছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে।
এরূপ দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের দেওয়া তথ্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা গ্রেফতার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি আসল নয়৷ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা গ্রেফতার হওয়ার মতো কোনো ঘটনাও ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া এই ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে শুরুতে গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে, দৈনিক খবরের কাগজের ফেসবুক পেইজে গত ৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায় যার সাথে আলোচিত ছবির আংশিক সাদৃশ্য রয়েছে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রসঙ্গে গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংবাদ সম্মেলন করে ইনকিলাব মঞ্চ। এটি সেই ঘটনারই দৃশ্য।

আলোচিত ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, মূল ভিডিওতে শুধুমাত্র ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা থাকলেও আলোচিত ছবিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ডাকসুর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও ফাহিম আবদুল্লাহর দুইপাশে দুইজন করে পুলিশ রয়েছেন।
তবে, প্রচারিত ছবিতে থাকা পুলিশদের পর্যবেক্ষণ করলে কিছুটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে পরিলক্ষিত হয়।
বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে প্রচারিত ছবিটি গুগলের জেমিনির এআই জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডির (SynthID) মাধ্যমে পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। জেমিনি জানায়, ছবিটির কিছু অংশ গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত।

গুগলের সিন্থআইডি (SynthID) প্রযুক্তি এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও, অডিও বা টেক্সটে অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত করে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। গুগলের দাবি, কনটেন্ট তৈরি হওয়ার মুহূর্তেই এই ওয়াটারমার্ক যুক্ত হয় এবং ক্রপ করা, ফিল্টার প্রয়োগ বা ফ্রেম রেট পরিবর্তনের মতো সম্পাদনার পরও এটি টিকে থাকে। কোনো ছবি গুগল এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কি না জানতে চাইলে জেমিনিতে ছবিটি আপলোড করে জিজ্ঞেস করলেই সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক আছে কি না পরীক্ষা করে জানিয়ে দেয়।
সুতরাং, ফয়সালের দেওয়া তথ্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা গ্রেফতার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই-নির্মিত।
তথ্যসূত্র
- Khoborer Kagoj – Facebook Post
- Rumor Scanner’s Analysis

