সম্প্রতি, ‘জামিন পেয়েই ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বারে উপস্থিত হয়ে সেখান থেকে স্বৈরাচার দোসর সেলিনা হায়াৎ আইভী ‘ভিক্টোরি’ সংকেতের মাধ্যমে মূলত সরকার তথা জুলাই আন্দোলনকারিদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন। এসময়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন তার নামে দায়ের করা মামলাকারিদের বাড়িঘরও বত্রিশ নাম্বারের মত হবে।’ শিরোনামে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছবিটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া এই ছবি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম বা বিশ্বস্ত সূত্রে এমন কোনো ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে, গত ৭ জুন ঢাকা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর একটি ছবি খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির অনেকাংশে মিল রয়েছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ছবিটি ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময়ের।

প্রচারিত ছবিটি পর্যবেক্ষণ করলে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও ছবিতে থাকা ব্যক্তিদের মুখাবয়বে কিছু অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে দেখা যায়।
বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে প্রচারিত ছবিটি সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করলে, এর নিচের ডান কোণে গুগলের জেমিনি এআইয়ের জলছাপ লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে, গুগলের এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট জেমিনির তথ্য অনুযায়ীও আলোচিত ছবিটি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদনা বা তৈরি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ জুন এক বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসভবনে যান সেলিনা হায়াৎ আইভী।
সুতরাং, ধানমন্ডি বত্রিশে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে সেলিনা হায়াৎ আইভীর ছবি দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই নির্মিত।
তথ্যসূত্র
- Dhaka Tribune – Ivy: Could have won by over 100,000 votes
- Prothom Alo – জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজ বাসায় সেলিনা হায়াৎ আইভী


