দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ও জাইমা রহমান শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন দাবিতে এআই-তৈরি ছবি প্রচার

গত ২৫ মার্চ বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় বাবা-মা হারানো এক শিশুর সব দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমান নিয়েছেন দাবিতে একটি ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। 

ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।

থ্রেডসে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক


রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি ঘটনায় বাবা-মা হারানো শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও জাইমা রহমান দাবিতে প্রচারিত ছবিটি বাস্তব নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর সহযোগিতায় তৈরি ছবিকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৮ জন শিশু এবং ৭ জন পুরুষ রয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে, এ ঘটনায় বাবা-মা হারানো কোনো শিশুর সব দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী বা তার কন্যা জাইমা রহমান নিয়েছেন বলে কোনো তথ্য গণমাধ্যম বা অন্য কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ এবং জাইমা রহমানের ফেসবুক পেজেও এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য মিলেনি।

এছাড়া, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি ঘটনার পর থেকে এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ অবধি প্রধানমন্ত্রী ও জাইমা রহমানকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশের আলোর ওয়েবসাইটে গত ২৮ মার্চ “দৌলতদিয়া বাসডুবিতে মায়ের আত্মত্যাগে বেঁচে গেল ছোট্ট আলিফ” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে থাকা ছবিতে যে শিশুকে দেখা যাচ্ছে সেই শিশুর চেহারা, পোশাকের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিতে থাকা শিশুর চেহারা পোশাকের মিল রয়েছে।

অর্থাৎ, উক্ত ছবিটির সহযোগিতায় আলোচিত ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।

এরপর আলোচিত ছবিটি একাধিক এআই ডিটেক্টর দিয়ে যাচাই করে দেখা যায়, এটি একটি এআই দিয়ে তৈরি ছবি।

অন্যদিকে আরও অনুসন্ধানে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ৩১ মার্চ “পদ্মায় বাসডুবি: বাবা থেকেও নেই, মাকে হারিয়ে দিশাহারা শিশু আলিফ” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ বাসডুবি ঘটনায় আলিফের মা জোসনা খাতুন মারা গেলেও পাঁচ বছর পূর্বেই বাবা মান্নান মোল্লা মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে।

অর্থাৎ, বাবা মারা যাওয়ার দাবিটিও সঠিক নয়।

সুতরাং, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় বাবা-মা হারানো এক শিশুর সব দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও জাইমা রহমান নিয়েছেন বলে প্রচারিত দাবিটি ভুয়া এবং এ দাবির সঙ্গে প্রচারিত ছবিটিও এআই-জেনারেটেড।

তথ্যসূত্র

Share: