জুস পান করতে করতে ইরানের মিসাইল ছোঁড়ার ভিডিও দাবিতে এআই ভিডিও প্রচার

চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মাঝে সম্প্রতি কতিপয় গণমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ‘জুস পান করতে করতে ছুঁড়ছে মি’সা’ই’ল, ইরানের ভিডিও ভাইরাল’। প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের সেনা সদস্য সদৃশ এক ব্যক্তি সেলফি স্টিক হাতে ডালিমের জুস পান করতে করতে স্কেটিং করছেন এবং তার পেছনে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত কিছু ভিডিওতে বলা হয়েছে, ‘ভিডিওটির সত্যতা বা এর পেছনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি’।

তবে, অনেক নেটিজেনদেরকে ভিডিওর শিরোনাম বা ক্যাপশন দেখে বিভ্রান্ত হয়ে এটি আসল ভিডিও ধরে নানা মন্তব্য করতে দেখা যায়।

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রচারিত পোস্ট: কালবেলা, যুগান্তর, আজবার্তা, বাংলা স্টার, বিশ্ববাংলা২৪ টিভি।
এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: প্রবাস খবর।
এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
এরূপ দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ডালিমের জুস পান করতে করতে ইরানের মিসাইল ছোঁড়ার কোনো আসল দৃশ্যের ভিডিও নয়। প্রকৃতপক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি এই ভিডিওকে আসল দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত ভিডিওর সূত্রপাতের বিষয়ে অনুসন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের এক্স অ্যাকাউন্টে গত ২৭ মার্চে আলোচিত মূল ভিডিওটি পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘আজকের মজার পোস্ট: ডালিমের রস পান করুন যাতে তেল আবিবে আরও নির্ভুলভাবে আঘাত করতে পারেন।’ (অনূদিত)
তবে এক্স পোস্টটিতে ভিডিওটি আসল নাকি এআই নির্মিত এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ করা হয়নি। আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে তাতে সেনা সদস্যের মুখভঙ্গি, ত্বক, ভিডিওর শব্দ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও লেখার অক্ষর এসব বিষয়ে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায় যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি কনটেন্ট লক্ষ্য করা যায়।
পাশাপাশি, প্রচারিত ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি কি না তা যাচাই করতে রিউমর স্ক্যানার টিম গুগলের বিশেষ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ‘SynthID’ ব্যবহার করে। গুগলের এই প্রযুক্তি এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও, ভিডিও বা অডিওতে অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও গুগলের নিজস্ব টুলের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। ভিডিওটি সিন্থআইডি দিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, SynthID ওয়াটারমার্কের ভিত্তিতে, এই ভিডিওটির কিছু অংশ গুগল এআই ব্যবহার করে সম্পাদনা বা তৈরি করা হয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, ভিডিওর ০:২০ থেকে ০:২৪ সেকেন্ডের মধ্যবর্তী ভিজ্যুয়ালগুলোতে ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এই ক্লিপটিতে এআই-জেনারেটেড কোনো অডিও বা শব্দ শনাক্ত করতে পারেনি সিন্থআইডি।
পরবর্তীতে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ মডারেশন’ ও ‘ডিপফেক-ও-মিটার’ এর সাহায্যে বিশ্লেষণ করলে ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা সিংহভাগ দেখা যায়।
এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ভিডিওটি আসল নয় বরং, এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, ডালিমের জুস পান করতে করতে ইরানের মিসাইল ছোঁড়ার আসল ভিডিও দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি প্রকৃতপক্ষে এআই এর সাহায্যে তৈরি।
তথ্যসূত্র
- Iran Embassy SA – X Post
- AI Analysis

