বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় বেঁচে যাওয়া সৈন্যদের কান্নার দৃশ্য দাবিতে এআই-তৈরি ভিডিও প্রচার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলার খবরও আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ইরান হামলা চালিয়ে কয়েকটি স্থাপনা ধ্বংস করেছে। এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুইটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ২০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ভিডিওগুলোতে বেঁচে থাকা সেনাদের কান্নার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

১ম দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
২য় দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিও দুইটি আসল নয় এবং বাহরাইনে কোনো মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ২০০ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবিরও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও দুইটি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম বা কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে এমন ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস) দাবি করেছে, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর পাল্টা হামলায় অন্তত ২০০ জন মার্কিন সদস্য নিহত বা আহত হয়েছে। তবে বাহরাইনের কোনো একক মার্কিন ঘাঁটিতে ২০০ সেনা নিহত হয়েছে এমন দাবি ইরানও করেনি এবং অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রেও এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে রিউমর স্ক্যানার টিম আলোচিত দাবির সঙ্গে প্রচারিত ভিডিও দুইটি পৃথকভাবে যাচাই করে।
১ম ভিডিও যাচাই

প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে ব্যক্তির মুখাবয়ব ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে দেখা যায়।
বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশনের মাধ্যমে ভিডিওটি পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। টুলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।
২য় ভিডিও যাচাই

প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে ব্যক্তির মুখাবয়ব ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে দেখা যায়।
বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘ডিপফেক-ও-মিটার’ এর ‘AVSRDD (2025)’ মডেলের মাধ্যমে ভিডিওটি পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। মডেলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।
সুতরাং, বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় বেঁচে যাওয়া সৈন্যদের কান্নার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওগুলো এআই নির্মিত।
তথ্যসূত্র
- DeepFake-o-meter: AVSRDD (2025)
- HIVE MODERATION
- The Chosun Ilbo – Iran Retaliates Against U.S. Bases, Claims 200 Casualties
- Rumor Scanner’s Analysis

