সাবেক এনসিপি নেত্রী মায়ার আ.লীগের ‘লকডাউনে’ সমর্থন দাবিতে ডিপফেক ভিডিও প্রচার

গত ১৩ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় লকডাউন কর্মসূচি পালন করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এর প্রেক্ষিতে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহী জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়ক শামীমা সুলতানা ওরফে মায়ার বক্তব্য দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। উক্ত ভিডিওতে মায়াকে ‘আমি ১৩ তারিখের লক ডাউনকে সমর্থন করি এবং আমি আমার পদ থেকে পদত্যাগ করছি। অবৈধ সরকার দেশকে ধ্বংস করছে, আমরা সাধারণ জনগণ তাদের আর চাই না। আমরা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে চাই’ বলতে দেখা যায়। 

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, শামীমা সুলতানা ওরফে মায়ার বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া এই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সময় টিভির ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ‘রাজশাহীতে এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মায়ার পদত্যাগ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির আংশিক সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ভিডিওটিতে মায়ার পোশাক-অনুষঙ্গ, পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড, তার কথা বলার ধরণের সাথে আলোচিত ভিডিওটির মিল রয়েছে৷

এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কেন্দ্রীয় কমিটিতে লিখিত অভিযোগ করে কোনো ‘প্রতিকার না পেয়ে’ পদত্যাগ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহী জেলা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক শামীমা সুলতানা ওরফে মায়া। সেদিন রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে জলিল বিশ্বাস মার্কেটের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

তবে মূল ভিডিও বা কোনো গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের কোথাও তাকে আওয়ামী লীগের লকডাউনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এমন মন্তব্য করতে দেখা বা শোনা যায়নি। মূল ভিডিওটি সেপ্টেম্বরের, আর আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে নভেম্বরে। ফলে এই ভিডিওতে তাকে লকডাউনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার দাবি বাস্তবসম্মত নয়।

এছাড়া, মূলধারার গণমাধ্যম ও জাতীয় নাগরিক পার্টি সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রেও দলটির সাবেক এই নেত্রীর আলোচিত মন্তব্য করার বিষয়ে কোনো তথ্য মেলেনি।

এছাড়া, প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে ভিডিওতে থাকা মায়া সদৃশ ব্যক্তির মুখাবয়বের অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে পরিলক্ষিত হয়।

বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘ডিপফেক-ও-মিটার’ এর ‘AVSRDD (2025)’ মডেলের মাধ্যমে ভিডিওটি পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। মডেলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।

সুতরাং, এআই দিয়ে তৈরি ডিপফেক ভিডিওকে ১৩ নভেম্বর আ.লীগের ‘লকডাউন’ কে সমর্থন জানিয়ে মায়ার বক্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: