আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বেঁচে নেই, প্রচারিত ভিডিওটি গত ১২ ফেব্রুয়ারির

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ ঘটনায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। এসব ঘটনার মধ্যেই ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে, ‘আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মারা যাননি এবং তিনি নিজেই ভিডিও বার্তায় বলেছেন তিনি বেঁচে আছেন’ শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে৷

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বেঁচে নেই এবং উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি নিজের জীবিত থাকার বিষয়ে খামেনির বার্তা নয়। প্রকৃতপক্ষে, ইরানে ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশ্যে আলী খামেনির দেওয়া ভাষণের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘khamenei_video’ নামক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত আলোচিত ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, ইরানে ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে ১২ই বাহমানে (১১ ফেব্রুয়ারি) ইরানি জাতির অংশগ্রহণমূলক কাজের জন্য আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিতাদের ধন্যবাদ জানান। ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এক টেলিভিশন বার্তায় ১২ই বাহমানে (১১ ফেব্রুয়ারি) লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশাল সমাবেশকে গর্বের উৎস এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শক্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধি এবং ইরানি জাতির শত্রুদের জন্য হতাশার কারণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এই মহান আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং মূল্যবান জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার জন্য সকলকে আহ্বান জানান। উক্ত ভিডিওতে নিজের জীবিত থাকার দাবি সংক্রান্ত কোনো কথা বলেননি আলী খামেনি।

ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, ইরানে ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে ১২ই বাহমানে (১১ ফেব্রুয়ারি) ইরানি জাতির অংশগ্রহণমূলক কাজের জন্য আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিতাদের ধন্যবাদ জানান। ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এক টেলিভিশন বার্তায় ১২ই বাহমানে (১১ ফেব্রুয়ারি) লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশাল সমাবেশকে গর্বের উৎস এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শক্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধি এবং ইরানি জাতির শত্রুদের জন্য হতাশার কারণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এই মহান আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং মূল্যবান জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার জন্য সকলকে আহ্বান জানান। উক্ত ভিডিওতে নিজের জীবিত থাকার দাবি সংক্রান্ত কোনো কথা বলেননি আলী খামেনি।

পরবর্তীতে, ইরান এবং অন্যান্য দেশের একাধিক গণমাধ্যমে (, , , ) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।

উল্লেখ্য, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিবৃতি গতকাল (০১ মার্চ) বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়েছে। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা IRNA (ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি) গতকাল (০১ মার্চ) সকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছে।

সুতরাং, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বেঁচে আছেন শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: