আলী রীয়াজ ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে পালিয়েছেন বলেননি শফিকুল আলম, সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি, “আলী রীয়াজ ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে পালিয়েছেন-সফিক” শীর্ষক শিরোনামে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বক্তব্য দাবিতে মূলধারার সংবাদমাধ্যম যুগান্তরের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। 

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, “আলী রীয়াজ ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে পালিয়েছেন-সফিক” শীর্ষক তথ্যে বা শিরোনামে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বক্তব্য দাবিতে যুগান্তর কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি বরং, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় যুগান্তরের ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনার মাধ্যমে এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, শফিকুল আলম এর উল্টো বলেছেন। তিনি বলেছেন, আলী রীয়াজ ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে পালিয়েছেন, এটি ডাহা মিথ্যা।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে যুগান্তরের লোগো ও ফটোকার্ড প্রচারের তারিখ হিসেবে ৭ নভেম্বরের উল্লেখ রয়েছে।

এরই সূত্র ধরে যুগান্তরের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত শিরোনাম সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও যুগান্তরের ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো গণমাধ্যমেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, গত ৭ নভেম্বরে “প্রেস সচিব| আলী রীয়াজ ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে পালিয়েছেন, এটি ডাহা মিথ্যা” শীর্ষক শিরোনামে একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবি ও গ্রাফিক্যাল ডিজাইনের সাথে এর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। শুধু আলোচিত ফটোকার্ডটিতে ‘এটি ডাহা মিথ্যা’ শীর্ষক বাক্যাংশের পরিবর্তে ‘-সফিক’ লেখা হয়েছে। এছাড়া, ‘পালিয়েছেন’ শব্দের পর ‘সফিক’ শব্দের ফন্টেও অমিল রয়েছে।

অর্থাৎ, যুগান্তরের এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে যুগান্তরের আসল ফটোকার্ডের মন্তব্য বিভাগে সংযুক্ত লিঙ্কের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন বলেন, ৯ মাসে ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি ড. আলী রীয়াজ পালিয়ে গেছেন বলে এক ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। কিন্তু এই টাকার হিসাব তিনি কোথায় পেলেন আমার জানা নাই। এখন ডাহা মিথ্যা বললে অনেকের জনপ্রিয়তা বাড়ে। তাই জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য অনেকেই মিথ্যাচার করে থাকেন। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে নেত্রকোনার সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।’

অর্থাৎ, শফিকুল আলম বলেননি, আলী রীয়াজ ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে পালিয়েছেন। বরং তিনি এরূপ দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, আলী রীয়াজ ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে পালিয়েছেন, এটি ডাহা মিথ্যা।

উল্লেখ্য, মূলধারার গণমাধ্যম কালের কণ্ঠের সূত্রে জানা যায়, এর আগে এক টেলিভিশন টক শোতে সাবেক ছাত্রনেতা ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘৯ মাসে ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে আলী রীয়াজ পালালেন কেন?’ মোশাররফ আহমেদ বলেন, ‘৮৩ কোটি খরচ করে এখন বলেন রাজনৈতিক দলগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে। তাহলে শুরুতেই বলতেন যে রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নিয়ে তারপর আপনারা আসুন। এদিকে অধ্যাপক আলী রীয়াজ গত ২ নভেম্বর পেশাগত কাজে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান এবং গত ১৮ নভেম্বর মধ্যরাতে নিয়মিত ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ফিরেন তিনি।

সুতরাং, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন “আলী রীয়াজ ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে পালিয়েছেন” শীর্ষক দাবি মিথ্যা এবং যুগান্তরের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: