রাজনৈতিক নয়, বরিশালে এক ব্যক্তির চোখ তুলে ফেলার কারণ পারিবারিক দ্বন্দ্ব

সম্প্রতি, “আওয়ামীলীগ নেতার চোখ তুলে ফেলতছে বিএনপির মহিলা-পুরুষ জঙ্গিরা। আর কত নিচে নামবে এই সন্ত্রাসীরা। আহা সোনার বাংলাদেশ শেষ! সবাই শেয়ার করে দেশবাসীকে, এদের মুখোশ খুলে দিন।” দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওটি বিএনপির লোকজন কর্তৃক আওয়ামী লীগ নেতার চোখ তুলে ফেলার ঘটনার নয় বরং, এটি বরিশালে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ভাইয়ের চোখ অন্য ভাইদের তুলে ফেলার ঘটনার ভিডিও।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ভিডিওটির কিছু কী ফ্রেম রিভার্স সার্চ করে “Bitter Truth বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক” নামক ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

উক্ত ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, বরিশাল জেলার মুলাদি উপজেলা নাজিরপুর ইউনিয়ন সাহেবের চর গ্রামে সম্পত্তির ভাগাভাগি জেরে আপন ভাইয়ের চোখ উঠিয়ে বাবা আশেদ বেপারী হাতে তুলে দিয়েছে অপর দুই ভাই রোকন বেপারী তার স্ত্রী ও মেয়ে, সপন বেপারী।

উল্লিখিত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড সার্চ করে জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট “‘বাবার নির্দেশ’, ছোট ভাইয়ের দু’চোখ তুলে নিল বড় ২ ভাই” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট (শুক্রবার) বরিশালের মুলাদী উপজেলার সাহেবেরচর গ্রামে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও টাকার লোভে ছোট ভাইয়ের দুই চোখ উপড়ে ফেলে বাবার হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চোখ হারানো ব্যক্তি সিরাজুল ইসলাম ওরফে রিপন বেপারীর (৫০) স্ত্রী রোকসনা বেগম বাদী হয়ে আদালতে নালিশি আবেদন করলে আদালত তা মামলা হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন। তিনি গ্রামের আরশেদ বেপারীর ছোট ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাই হলেন- রোকন বেপারী ও স্বপন বেপারী। তাদের সঙ্গে রোকনের স্ত্রী নুর নাহার বেগম ও মেয়ে সুবর্না আক্তারের নামও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিডিনিউজ২৪ ডট কমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী রিপনের বাবার নির্দেশে দুই ভাই রোকন ও স্বপন মিলে তাকে মারধর করে এবং দুই চোখ সমূলে উৎপাটন করে বাবার হাতে তুলে। মুলাদী থানার এসআই মো. মাসুদের বরাতে বলা হয়, রিপন বেপারীর বিরুদ্ধে ঢাকার রমনা থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ৮টি২০২৪ মামলা রয়েছে। এছাড়া মুলাদী থানায় হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ২০টি মামলা রয়েছে।

অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওর ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ঘটনার সাথে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ভাইয়ের চোখ অন্য ভাইদের তুলে ফেলার ঘটনার ভিডিওকে বিএনপির লোকজন কর্তৃক আওয়ামী লীগ নেতার চোখ তুলে ফেলার ভিডিও দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: