তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে কালের কণ্ঠের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

গেল জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে ‘আমি পালাইনি, লন্ডনে গবেষণা করতে গিয়েছিলাম কিভাবে তারবিহীন খাম্বা বসানো যায়, পানি ছাড়া সরবত তৈরি করা যায়’ শিরোনামে কালের কণ্ঠের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তারেক রহমান এমন কোনো মন্তব্য করেননি এবং উক্ত শিরোনামে কালের কণ্ঠও কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, কালের কণ্ঠের ভিন্ন একটি ফটোকার্ড ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তার সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে কালের কণ্ঠ এর লোগো ও প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘২২ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ রয়েছে। এরই সূত্র ধরে কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে এ সংক্রান্ত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে, কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজে গত ২২ জানুয়ারি তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে ‘ যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে তারা যেভাবে আপনাদের ভোট ডাকাতি করেছিল ঠিক একইভাবে ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে’ শীর্ষক মন্তব্য সংবলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের মন্তব্যের বাক্য ব্যতীত বাকি সকল উপদানের মিল রয়েছে। কালের কণ্ঠের মূল ফটোকার্ডটিতে তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে ‘যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে তারা যেভাবে আপনাদের ভোট ডাকাতি করেছিল ঠিক একইভাবে ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে তাকে উদ্ধৃত করে ‘আমি পালাইনি, লন্ডনে গবেষণা করতে গিয়েছিলাম কিভাবে তারবিহীন খাম্বা বসানো যায়, পানি ছাড়া সরবত তৈরি করা যায়’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।
অর্থাৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে কালের কণ্ঠের এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে ‘আমি পালাইনি, লন্ডনে গবেষণা করতে গিয়েছিলাম কিভাবে তারবিহীন খাম্বা বসানো যায়, পানি ছাড়া সরবত তৈরি করা যায়’ শিরোনামে কালের কণ্ঠের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Kaler Kantho: Facebook Post
- Rumor Scanner’s analysis

