‘কষ্ট করে দুর্নীতি করতাম, সেই ইনকামেরও ভাগ দিতে হতো প্রধান উপদেষ্টাকে’ শীর্ষক মন্তব্য করেননি শফিকুল আলম, সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে উদ্ধৃত করে ‘কষ্ট করে দুর্নীতি করতাম আমি, সেই ইনকামেরও ভাগ দিতে হত প্রধান উপদেষ্টা ডা. ইউনূস কে’ শিরোনামে দৈনিক সংবাদপত্র বাংলাদেশ টাইমসের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শফিকুল আলম এমন কোনো মন্তব্য করেননি এবং বাংলাদেশ টাইমসও এরূপ কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় বাংলাদেশ টাইমস কর্তৃক প্রকাশিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে বাংলাদেশ টাইমসের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।
উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে বাংলাদেশ টাইমসের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বাংলাদেশ টাইমসের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে, বাংলাদেশ টাইমসের ফেসবুক পেজে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘সরকারে এসে আমি আর্থিকভাবে ক্ষ/তি/গ্র/স্ত হয়েছি। গত ১৮ মাসে ৬০-৮০ লাখ টাকার ইনকাম ল/স করেছি। আমার যে ইনকাম ছিল সেই তুলনায় সরকারে এসে আমার ইনকাম চার ভাগের এক ভাগ হয়ে গেছে।’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।
উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির সাথে আলোচিত ফটোকার্ডের তারিখ, বাংলাদেশ টাইমসের লোগো এবং শফিকুল আলমের ছবির মিল রয়েছে, তবে উভয়ের শিরোনামে ভিন্নতা রয়েছে। বাংলাদেশ টাইমসের ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল রয়েছে।

অর্থাৎ, বাংলাদেশ টাইমসের এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়াও, পরবর্তীতে শফিকুল আলমের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করেও এমন কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্য কোনো গণমাধ্যমেও তার এমন মক্তব্যের অস্তিত্ব মেলেনি।
সুতরাং, শফিকুল আলমকে উদ্ধৃত করে ‘কষ্ট করে দুর্নীতি করতাম আমি, সেই ইনকামেরও ভাগ দিতে হত প্রধান উপদেষ্টা ডা. ইউনূস কে’ শিরোনামে বাংলাদেশ টাইমসের নামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Bangladesh Times – Facebook Page
- Bangladesh Times – Website
- Bangladesh Times– YouTube Channel
- Shafiqul Alam – Facebook profile

