এখন টিভির সম্পাদিত ফটোকার্ডে জামায়াত আমীরের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

গত ০৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান ‘দুর্নীতি ও হত্যা মামলার আসামী ১৭ বছর লন্ডনে পালিয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র যায় বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে সে যুদি প্রধানমন্ত্রী হওয়া সুযোগ পায় এখন যারা দুর্নীতি ও হত্যা মামলার আসামী হয়ে বিদেশে পালিয়ে আছে ভবিষ্যতে তারাও প্রধানমন্ত্রী হবে-হবিগঞ্জে জনসভায় জামায়াত আমিরের প্রশ্ন’ শীর্ষক দাবিতে গণমাধ্যম এখন টিভির ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, জামায়াত ইসলামীর আমীর এমন কোনো মন্তব্য করেননি এবং এরূপ দাবিতে এখন টিভিও কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। বরং, এখন টিভির ভিন্ন একটি ফটোকার্ড ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে গণমাধ্যম এখন টিভির লোগো এবং ফটোকার্ডটি প্রচারের তারিখ হিসেবে ‘৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬’ উল্লেখ পাওয়া যায়। এরই সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে ৭ ফেব্রুয়ারি কিংবা অন্য কোনো তারিখে প্রকাশিত এমন কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি।
তবে, এখন টিভির ফেসবুক পেজে ৭ ফেব্রুয়ারি ‘চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের ভয়ে মানুষ অস্থির এমন বাংলাদেশ কি চেয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা?– হবিগঞ্জে জনসভায় জামায়াত আমিরের প্রশ্ন’ শিরোনামে প্রচারিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম ব্যতীত বাকি সকল উপাদানের মিল রয়েছে। এখন টিভির মূল ফটোকার্ডটিতে ‘চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের ভয়ে মানুষ অস্থির এমন বাংলাদেশ কি চেয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা?– হবিগঞ্জে জনসভায় জামায়াত আমিরের প্রশ্ন’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে ‘দুর্নীতি ও হত্যা মামলার আসামী ১৭ বছর লন্ডনে পালিয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র যায় বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে সে যুদি প্রধানমন্ত্রী হওয়া সুযোগ পায় এখন যারা দুর্নীতি ও হত্যা মামলার আসামী হয়ে বিদেশে পালিয়ে আছে ভবিষ্যতে তারাও প্রধানমন্ত্রী হবে-হবিগঞ্জে জনসভায় জামায়াত আমিরের প্রশ্ন’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।
অর্থাৎ, এখন টিভির এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, জামায়াত আমীরকে উদ্ধৃত করে এখন টিভির নামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Rumor Scanner’s analysis
- Ekhon TV- Facebook Post

