পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদকে জড়িয়ে আরটিভির সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে উদ্ধৃত করে ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম সুত্রটি আবিষ্কার করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শিরোনামে মূলধারার গণমাধ্যম আরটিভির ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে উদ্ধৃত করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে আরটিভি এমন কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি এবং
সালাহউদ্দিন আহমেদও এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, গত ২৮ এপ্রিল আরটিভিতে প্রকাশিত সালাহউদ্দিন আহমেদের মন্তব্য সংবলিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে আরটিভির লোগো এবং এটি প্রকাশের দিন হিসেবে ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।
উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে আরটিভির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও আরটিভির ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল কিংবা অন্য কোনো গণমাধ্যমেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে, গত ২৮ এপ্রিল “সেনাবাহিনীর সদস্যদের ব্যারাকে ফেরানোর বিষয়ে যে বার্তা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী” শিরোনামে সালাহউদ্দিন আহমেদের মন্তব্য সংবলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবি ও গ্রাফিক্যাল ডিজাইনের সাথে এর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। তবে, আলোচিত ফটোকার্ডটিতে শিরোনামের স্থলে “পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম সুত্রটি আবিষ্কার করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী” শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে। এছাড়া, শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টেও অমিল পরিলক্ষিত হয়।

আরটিভির মূল ফটোকার্ড সংবলিত পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের বিদ্যমান আইন অনুসারে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী সেনাবাহিনী মাঠে আছে। তবে পর্যায়ক্রমে তা তুলে নেয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদে এ কথা জানান।
সুতরাং, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদেকে উদ্ধৃত করে আরটিভির নামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Rtv: Facebook Post
- Rtv: Website

