জুলাই যোদ্ধা সম্মাননাকে সাংবিধানিকভাবে অন্যায় বলে মন্তব্য করেননি আমীর খসরু

সম্প্রতি ‘জুলাই যোদ্ধা বলতে কিছু নেই, সংবিধান অনুযায়ী এটা অন্যায়- আমির খসরু’ শিরোনামে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মন্তব্য দাবিতে তার ছবিযুক্ত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে৷ 

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)৷

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘জুলাই যোদ্ধা বলতে কিছু নেই, সংবিধান অনুযায়ী এটা অন্যায়’ শীর্ষক কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, কোনোপ্রকার তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি।

জুলাই যোদ্ধাদের বিষয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এরূপ কোনো মন্তব্য করে থাকলে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতো এবং গণমাধ্যমেও গুরুত্ব সহকারে সংবাদ প্রচারিত হতো। কিন্তু, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্যের বিষয়ে অনুসন্ধানে সমকালের ওয়েবসাইটে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ‘মুক্তিযুদ্ধের জায়গায় মুক্তিযুদ্ধ, চব্বিশের জায়গায় চব্বিশ: আমির খসরু’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরদিন গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম কর্মদিবসের সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের জায়গায় মুক্তিযুদ্ধ, চব্বিশের জায়গায় চব্বিশ। এটাতো একটার সঙ্গে একটা পরস্পরবিরোধী কিছু না। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে এই দেশের জন্মের যুদ্ধ আর চব্বিশ হচ্ছে আমাদের স্বৈরাচার নিপাত করে একটি গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে আনার যুদ্ধ। সুতরাং দুইটারই দুই ভ্যালু আছে, মূল্যবোধ আছে। দুইটাকে রেসপেক্ট করতে হবে। তার বক্তব্যে ‘জুলাই যোদ্ধা বলতে কিছু নেই, সংবিধান অনুযায়ী এটা অন্যায়’ শীর্ষক কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে, আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ২০২৫ সালের ০৪ নভেম্বর ইত্তেফাকের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওতে গণভোট প্রসঙ্গে আমীর খসরুকে বলতে শোনা যায়, ‘কিসের গণভোট, গণভোট বলে কিছু নাই। এটি ঐকমত্য কমিশনের কোনো অ্যাজেন্ডা ছিল না, এখনও কোনো অ্যাজেন্ডা নেই। যেটা ঐকমত্য হওয়ার অতটুকু হয়েছে, চ্যাপ্টার ওখানেই ক্লোজ হয়েছে’। উক্ত ভিডিওতেও ‘জুলাই যোদ্ধা বলতে কিছু নেই, সংবিধান অনুযায়ী এটা অন্যায়’- তার এমন কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, বিডিনিউজ২৪ এর ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ০৮ নভেম্বর ‘এই সংবিধানে গণভোট নিয়ে কিছু নেই: খসরু’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘নির্বাচনি ইশতেহারে প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক সেমিনারে আমীর খসরু বলেন, বর্তমান সংবিধানের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছে। তারা এই সংবিধানের অধীনে শপথ নিয়েছেন। এই সংবিধানে গণভোট নিয়ে কিছু নেই। আগামীতে নির্বাচনে পাস করে সংসদে গিয়ে সংবিধানে গণভোট যুক্ত করার পর গণভোট আসতে পারে। উক্ত বক্তব্যে ‘জুলাই যোদ্ধা বলতে কিছু নেই, সংবিধান অনুযায়ী এটা অন্যায়’- এমন কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উক্ত তথ্যাবলীর আলোকে ধারণা করা হচ্ছে, গণভোটের প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর করা এসব বক্তব্যকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে তার নামে আলোচিত ভুয়া বক্তব্যটি তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘জুলাই যোদ্ধা বলতে কিছু নেই, সংবিধান অনুযায়ী এটা অন্যায়’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন বলে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: