বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারিকে ফিফার নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিটি ভুয়া 

বিশ্বকাপে গত ৭ জুলাই মিসরের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে রেফারিং ও ফিফার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তোলে মিসর, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়েছে, ‘আলহামদুলিল্লাহ দুর্নীতির কারণে আর্জেন্টিনা মিশর ম্যাচের রেফারিকে সারা জীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা’।

টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অবধি ভিডিওটি প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজারবার দেখা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা) আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়কে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি। প্রকৃতপক্ষে, কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই উক্ত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ বা প্রাসঙ্গিক রেফারেন্স পাওয়া যায়নি। ফিফা রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্তসূত্রে তথ্য পাওয়া যেত।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ফিফার ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব, থ্রেডস, এক্স অ্যাকাউন্টে

প্রচারিত তথ্য পর্যবেক্ষণ করেও আলোচিত দাবির সত্যতা মেলেনি।

উল্লেখ্য, মিশরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (EFA) বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হারের দায়ে ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্তাদের টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা ফিফার কাছে আবেদন করে। তবে এই বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।

আরো অনুসন্ধানে, আমেরিকার ‘Bussin’Buns’ নামের একটি রেস্তোরাঁর ইনস্টাগ্রাম পেজে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের একটি ছবি দিয়ে তারা লিখে যে, ওই রেফারিকে তাদের পাঁচটি আউটলেট থেকে ব্যান বা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে একই ধরণের বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট প্রচার হতে শুরু করে। উক্ত ব্যঙ্গাত্মক পোস্টগুলো থেকেই আলোচিত দাবিটির উৎপত্তি হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

সুতরাং, ফিফা আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারিকে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিটি ভুয়া ও বানোয়াট।

সূত্রপাত

Share: