শেখ হাসিনার রায় প্রত্যাখ্যান করে সেনা বিদ্রোহ দাবিতে ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ভিডিও প্রচার

জুলাই আন্দোলনের সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৭ নভেম্বর অন্তত দিবাগত রাত থেকে একটি ভিডিও প্রচার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘র’ণক্ষেত্র সে’না সদরদপ্তর শেখ হাসিনার রায়-কে প্রত্যাখ্যান করে মু’ক্তি’যুদ্ধপন্থী সে’না জওয়ানরা বি’দ্রোহ ঘোষণা করেছে, ড. ইউনুসকে পদ’ত্যাগের জন্য চাপ দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি, ক্ষমতা গ্রহণ করবে সে’না প্রধান।’
অর্থাৎ, দাবি করা হয়েছে যে প্রচারিত ভিডিওটি শেখ হাসিনার রায় প্রত্যাখ্যান করে সেনা সদরদপ্তরে সেনা বিদ্রোহের দৃশ্যের।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি শেখ হাসিনার রায় প্রত্যাখ্যান করে ১৭ নভেম্বরে সেনা সদরদপ্তরে কোনো সেনা বিদ্রোহের নয়। এই রায়কে কেন্দ্র করে সেনা বিদ্রোহের কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের গুলি চালানোর ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ে প্রচারিত একটি ভিডিও পোস্ট পাওয়া যায়। ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের তুলনা করলে মিল পাওয়া যায়।

ভিডিওটি সম্পর্কে বিএনপি’র পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, ‘গভীর রাতে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের গুলিবর্ষণ। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দফায়, দফায় পুলিশি সহযোগিতায় হামলা করছে ছাত্রলীগ। হামলার এক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় তখনই পুলিশ এসে অতর্কিত ভাবে গুলিবর্ষণ শুরু করে।’
এরই প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘সমকাল’ এর ওয়েবসাইটে গত বছরের ১৬ জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটে হামলা হয়। এতে বহিরাগতসহ ছাত্রলীগের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে আশ্রয় নেয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, হামলা থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এছাড়া কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ করেন তারা। পরে হল থেকে দুই হাজারের অধিক শিক্ষার্থী বের হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান। তবে পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে তিনজন সাংবাদিকসহ ছয় শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হন।
এছাড়াও, এ বিষয়ে সেসময় আরো একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হতে দেখা যায়।
অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং এটি প্রকৃতপক্ষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের গুলি চালানোর ভিডিও।
সুতরাং, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভিডিওটিকেই শেখ হাসিনার রায় প্রত্যাখ্যান করে সেনা সদরদপ্তরে কথিত সেনা বিদ্রোহের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Bangladesh Nationalist Party-BNP – Facebook Post
- Samakal – গভীর রাতে হামলা, পুলিশের গুলি
- Rumor Scanner’s analysis

